তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশকে বিদায় বলছেন কিউবা মিচেল

‘যারা বেতন বা অঙ্গীকারের অভাবে চুপচাপ ভোগান্তিতে থাকেন, তাদেরও কথা বলার সুযোগ থাকা উচিত। কোনো খেলোয়াড় ন্যায় ও পেশাদার আচরণের দাবি করায় তাকে অসহায় মনে করা উচিত নয়।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কিউবা মিচেল
কিউবা মিচেল |সংগৃহীত

বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েই বাংলাদেশে আসেন কিউবা মিচেল। যোগ দেন বসুন্ধরা কিংসে। তবে বাংলাদেশী ক্লাবের সাথে পথচলাটা সুখকর হয়নি তার। ঠিকমতো বেতন না পাওয়ায় মাত্র ৫ মাসেই ভাঙছে এই সম্পর্ক।

গত আগস্টে ইংলিশ ক্লাব সান্ডারল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দল থেকে বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কিউবা মিচেল। তবে স্বল্প এই সময়টাই তিক্ত হয়ে উঠেছে, বাধ্য হয়ে এবার ক্লাবটাকেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক পোস্টে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন কিউবা। এ মিডফিল্ডার লেখেন-

‘বকেয়া বেতনের ইস্যু নিষ্পন্ন না করায় আজ আমি বসুন্ধরা কিংসের সাথে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলো সমাধান না হওয়ায় মানসিক ও শারীরিকভাবে খেলার পরিবেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল।’

তিনি আরো লেখেন, ‘যদিও এখানে আমি স্বল্প সময় ছিলাম, তবে সেটা ছিল কার্যকরী। দলের জীবনধারা, সংস্কৃতি এবং সতীর্থ ও সমর্থকদের সাথে পরিচয় আমার জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। আমি পুরো সময় পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছি। প্রশিক্ষণ, ম্যাচে সম্মানের সাথে দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছি।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘ফুটবলাররা কেবল মাঠে খেলাই দেখায় না, আমরা দেই প্রতিশ্রুতি, শৃঙ্খলার। তাই আমাদের মৌলিক দায়িত্বগুলো পূরণ করা উচিত। এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমি তিক্তভাবে বের হচ্ছি না। আমি কৃতজ্ঞ সেই সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতার জন্য যা স্বল্প সময়ে পেয়েছি।’

দেশের ফুটবল কাঠামোর সমালোচনা করে ফুটবলারদের অধিকার রক্ষার কথাও বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ফুটবল আরো ভালো কিছু পাওয়ার দাবি রাখে। যে ফুটবলাররা প্রতিদিন আত্মত্যাগ করে খেলে, তাদের প্রতি ন্যায় নিশ্চিত করা উচিত। এখানে খেলার প্রতি তীব্র ভালোবাসা ও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলোর অবশ্যই রক্ষা করা উচিত।’

অন্যান্য ভুক্তভোগীদের পক্ষ নিয়ে কিউবা আরো বলেন , ‘যারা বেতন বা অঙ্গীকারের অভাবে চুপচাপ ভোগান্তিতে থাকেন, তাদেরও কথা বলার সুযোগ থাকা উচিত। কোনো খেলোয়াড় ন্যায় ও পেশাদার আচরণের দাবি করায় তাকে অসহায় মনে করা উচিত নয়।’