খারাপ সময়ের খোলসবন্দি হামজার লেস্টার সিটি, নেমে গেল তৃতীয় স্তরে

লেস্টার সিটি অবনমন নিশ্চিত হয়ে ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তরে নেমে গেছে, যেখানে শেষ মুহূর্তের ড্রও তাদের বাঁচাতে পারেনি। দলের খারাপ পারফরম্যান্স, পয়েন্ট কাটা ও ধারাবাহিক ব্যর্থতার ফলে এই অবনমন নিশ্চিত হয়, যা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না লেস্টার সিটির। প্রিমিয়ার লিগে রূপকথা লেখার পর আর পায়নি তেমন সাফল্য। উল্টা অবনমন হতে হতে হামজা চৌধুরীর দল নেমে গেল তৃতীয় সারিতে।

মঙ্গলবার হাল সিটির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে আনুষ্ঠানিকভাবে লিগ ওয়ানে অবনমন নিশ্চিত করেছে লেস্টার।

অবশ্য এমন হওয়ারই ছিল। শেষ ১৮ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেয়েছে দলটা। সব মিলিয়ে ৪৪ ম্যাচে জয় মাত্র ১১টি। এর মাঝে আবার খরচের নিয়ম ভঙ্গ করায় ছয় পয়েন্ট কাটা যায় লেস্টারের।

তবুও সুযোগ ছিল। অবনমন এড়ানোর আশা টিকিয়ে রাখতে গতরাতে জিততেই হতো লেস্টার সিটিকে। ৬২ মিনিট পর্যন্ত ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে সেই পথেই ছিলেন হামজা চৌধুরীরা।

কিন্তু ৬৩ মিনিটে হাল সিটির সমতাসূচক গোলে শেষ পর্যন্ত ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরে টিকে থাকতে পারেনি লেস্টার। ২৪ দলের লিগে ৪৪ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে ২৩ তম লেস্টার।

হাতে আছে আর দুই ম্যাচ। অবনমন অঞ্চল থেকে বাঁচতে ৭ পয়েন্টের দূরত্বে রয়েছে ক্লাবটি। বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও লেস্টারের পক্ষে এই ব্যবধান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না।

১৪২ বছরের ইতিহাসে লেস্টার সিটি মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো তৃতীয় স্তরে নামল। ইংলিশ ফুটবলের আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী, এই অবনমন ক্লাবের আয়েও বড় ধাক্কা দেবে।

এদিকে দলের এমন অবস্থায় সমর্থকদের ক্ষোভ ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচ শুরুর আগে দুয়োধ্বনি শুরু হয় ও শেষ বাঁশির পর ‘তোমরা এই জার্সি পরার যোগ্য নও’ বলে স্লোগান উঠে।

ক্লাবের মালিক আইয়াওয়াত শিভদ্ধনাপ্রভার বিরুদ্ধেও ‘গেট আউট অফ আওয়ার ক্লাব’ স্লোগান দেন তারা।

ম্যাচ শেষে ক্লাব চেয়ারম্যান আইয়াওয়াত এক বিবৃতিতে দায় স্বীকার করে বলেন, ‘এই অবনমনের সম্পূর্ণ দায় আমার। সমর্থকদের হতাশার জন্য আমি দুঃখিত। আমরা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেব।’