বিশ্বকাপে সব গল্প ট্রফি জয়ের হয় না। কিছু গল্প লেখা হয় হারতে হারতেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার সাহসে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই গল্পের নাম কেপ ভার্দে।
বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার ভোরে মায়ামিতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় নিয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজতেই যেন অন্য এক গল্পের শুরু।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে টেলিভিশনের স্টুডিও- সবখানেই প্রশংসার বন্যা। বিশ্বকাপ না জিতেও কেপ ভার্দে যেন জিতে নিয়েছে ফুটবল বিশ্বের হৃদয়। সবাই মুগ্ধ তাদের হার না মানা সাহসীকতায়।
অন্য সবার মতো মুগ্ধ সাবেক ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরি। ফক্স স্পোর্টসের বিশ্বকাপ বিশ্লেষণ অনুষ্ঠানে অঁরি কেপ ভার্দের প্রশংসা করতে গিয়ে তাদের লড়াইয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ ব্যতিক্রমী এক প্রস্তাবই দিয়ে বসেন।
তার দাবি, ‘বিশ্বকাপের এমন একটি দলকে সম্মান জানাতে ফিফার আলাদা একটি ট্রফি থাকা উচিত। যদি এমন কোনো পুরস্কার থাকত, আমি সেটি কেপ ভার্দেকেই দিতাম।’
অঁরির এই মন্তব্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই সাথে ছড়িয়ে পড়ে তার পাশেই বসা সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের প্রশংসাও।
তার মতে, ফুটবল শুধু বড় দেশ কিংবা বড় তারকাদের খেলা নয়; সাহস আর বিশ্বাস থাকলে ছোট দলও বিশ্বকে মুগ্ধ করতে পারে। কেপ ভার্দে সেটিই প্রমাণ করেছে।
সত্যিই তো তাই। কেপ ভার্দের গল্পটা যে রূপকথার মতোই। বিশ্বকাপ শুরুর আগে দলটির বেশিভাগ খেলোয়াড়কেই চিনতেন না ফুটবলপ্রেমীরা। ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার নামও ছিল অপরিচিত।
অথচ কয়েক সপ্তাহেই তিনি হয়ে উঠেছেন টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ফুটবলার। স্পেনের বিপক্ষে সাতটি সেভ, সৌদি আরবের বিপক্ষে ক্লিন শিট, আর আজ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আটটি সেভ! যা তাকে নিয়ে এসেছে আলোচনায়।
ভোজিনিয়ার সেই পারফরম্যান্স শুধু ম্যাচকেই নাটকীয় করে তোলেনি, বদলে দিয়েছে তার জীবনও। বিশ্বকাপ চলাকালেই তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগ হয়েছে লাখ লাখ নতুন অনুসারী।
যে গোলরক্ষককে কয়েক সপ্তাহ আগেও চিনত না বিশ্ব, এখন তাকেই খুঁজছে ফুটবলপ্রেমীরা। তেমনি তার দেশ কেপ ভার্দেও হয়ে উঠে বিশ্বকাপের বিস্ময়। যদিও এবার শেষ বত্রিশেই থেমেছে তাদের রূপকথা।



