বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নতুন ইতিহাস গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে গোলসংখ্যার হিসেবে তিনি পেছনে ফেলেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলেকে। আছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা হবার দৌড়েও।
২০২২ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী এমবাপ্পেকে থামানো যে কতটা কঠিন, তা ভালোভাবেই জানে প্রতিপক্ষরা। এমনকি ফ্রান্সের এই তারকা ফুটবলারকে আটকাতে তিন গোলরক্ষক খেলানোর কথাও ভাবছে ইরাক!
গ্রুপ ‘আই’-এ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ রাত ৩টায় ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইরাক। তার আগে সংবাদ সম্মেলনে ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড এমবাপ্পেকে আটকানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে এভাবে বলেন যে-
‘আমি ফিফার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, আমরা কি একসাথে তিনজন গোলরক্ষক খেলাতে পারি? কিন্তু তারা না বলে দিয়েছে!’ (মজা করে বলেন তিনি)
তবে এমবাপ্পের সামনে আজ শুধু প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙার চ্যালেঞ্জই নয়, অপেক্ষা করছে ব্যক্তিগত আরেকটি বড় অর্জনও। ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামলেই ফ্রান্সের জার্সিতে এটি হবে তার শততম ম্যাচ।
২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের সর্বোচ্চ এই গোলদাতার কাছে মুহূর্তটি তাই বিশেষ আবেগের। আবেগ ছুয়েছে এমবাপ্পেকেও।
এমবাপ্পে বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলা সবসময়ই গর্বের। এর চেয়ে বড় কিছু নেই। শততম ম্যাচ অবশ্যই একটি ঐতিহাসিক উপলক্ষ। আর সেটি যদি বিশ্বকাপের মঞ্চে হয়, তাহলে তা আরো বেশি অর্থবহ।’
ফ্রান্সের হয়ে ম্যাচসংখ্যার দিক থেকেও দ্রুত এগিয়ে চলেছেন তিনি। সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশমের ১০৩ ম্যাচের রেকর্ড ছুঁতে তার প্রয়োজন আর মাত্র কয়েকটি ম্যাচ।
ফ্রান্স যদি টুর্নামেন্টে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়, তাহলে চলতি বিশ্বকাপেই সেই মাইলফলক অতিক্রম করতে পারেন এমবাপ্পে। আর দীর্ঘমেয়াদে তার সামনে রয়েছে আরো বড় লক্ষ্য।
চোটমুক্ত থাকলে একদিন ফ্রান্সের হয়ে সর্বাধিক ১৪৫ ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারী উগো লরিসকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার। বর্তমান ফর্ম ও ধারাবাহিকতা বিবেচনায় সেই সম্ভাবনাকে মোটেও কঠিন নয়।
তবে আপাতত দলকে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য এমবাপ্পের। সেই লক্ষ্যে আজ ইরাকের মুখোমুখি হবেন তিনি। ফ্রান্স ও ইরাকের এটিই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ।



