স্পেনের কাছে হেরে জয়শূন্য বিদায় উরুগুয়ের

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমে ওঠে। তবে প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার বড় ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন আলেক্স বায়েনা। সেই এক গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

ক্রীড়া ডেস্ক
উরুগুয়ের বিপক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলের পর স্পেনের আলেক্স বায়েনার উদযাপন
উরুগুয়ের বিপক্ষে জয়সূচক একমাত্র গোলের পর স্পেনের আলেক্স বায়েনার উদযাপন |সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দল, দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপ হয়ে থাকল চরম হতাশার। একটি ম্যাচও জিততে না পেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। তিন ম্যাচে দুটি ড্র ও একটি হারে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে শেষ হয়েছে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান।

শুক্রবার (২৬ জুন) গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে নকআউটে ওঠার সব সম্ভাবনা হারায় মার্সেলো বিয়েলসার শিষ্যরা। একই সময়ে সৌদি আরবের সাথে গোলশূন্য ড্র করে অভিষেক বিশ্বকাপেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করে কেপ ভার্দে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমে ওঠে। তবে প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার বড় ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন আলেক্স বায়েনা। সেই এক গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের ভুলে ক্ষুব্ধ হয়ে বিরতির সময়ই কঠিন সিদ্ধান্ত নেন কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। দ্বিতীয়ার্ধে মুসলেরাকে মাঠ থেকে তুলে নেন তিনি। কিন্তু গোল শোধে ব্যর্থ হয় উরুগুয়ে। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় সেলেস্তেদের।

ম্যাচের শেষ দিকে হতাশা আরো প্রকট হয়ে ওঠে উরুগুয়ের খেলায়। অতিরিক্ত সময়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লাল কার্ড দেখেন আগুস্তিন কানোবিও। মাঠ ছাড়ার সময় রেফারির সাথে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ভবিষ্যতে অতিরিক্ত শাস্তির কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রুপ পর্বে উরুগুয়ের পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার অনেক নিচে। প্রথম ম্যাচে স্পেনের সাথে গোলশূন্য ড্রয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে তারা নিজেদের অবস্থান কঠিন করে তোলে। শেষ ম্যাচে স্পেনের কাছে হেরে জয়শূন্যভাবেই বিদায় নিতে হলো দলটিকে।

অন্যদিকে সৌদি আরবের সাথে গোলশূন্য ড্র করেই ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

উরুগুয়ের বিদায় আরো তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ যেখানে তারা গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ফলে দলটির কৌশল, খেলোয়াড় নির্বাচন এবং সামগ্রিক ফুটবল পরিকল্পনা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

১৯৩০ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপ জিতে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছিল উরুগুয়ে। এরপর ১৯৫০ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে তারা। কিন্তু সেই গৌরবময় ইতিহাসের সাথে বর্তমান বাস্তবতার ব্যবধান যেন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠল এবারের বিশ্বকাপে। জয়শূন্য বিদায় দিয়ে আরেকটি হতাশার অধ্যায় যোগ হলো উরুগুয়ের ফুটবল ইতিহাসে।