১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘ ২৮ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে শুরুটাই করল দুর্দান্তভাবে। তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে ইরাককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ইউরোপের দলটি।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দারুণ ছন্দে থাকা নরওয়ে মূল পর্বেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তারা। তবে ইরাকও পাল্টা লড়াই গড়ে তোলায় প্রথমার্ধে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপহার পায় দর্শকরা।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আর্লিং হলান্ড। সতীর্থের বাড়ানো বল স্লাইড করে জালে পাঠিয়ে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা ফরোয়ার্ড। তবে নরওয়ের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৯তম মিনিটে আয়মেন হুসেইনের দুর্দান্ত হেডে সমতায় ফেরে ইরাক।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আক্রমণের গতি বাড়ায় নরওয়ে। বিরতির দুই মিনিট আগে আবারোগোলের দেখা পান হলান্ড। তার দ্বিতীয় গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ইউরোপের দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইরাক। কয়েকটি ভালো আক্রমণও গড়ে তোলে তারা। তবে নরওয়ের সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের সুযোগ কাজে লাগাতে দেয়নি। একাধিক প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় হতাশ হতে হয় এশিয়ার প্রতিনিধিদের।
ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে নরওয়ের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে দেন ডিফেন্ডার লিও অস্টিগার্ড। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের কর্নার থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন তিনি।
এরপর হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন হলান্ড। তবে তার কাছ থেকে নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন ইরাকের গোলরক্ষক জালাল হাসান। ফলে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করা হয়নি নরওয়েজিয়ান তারকার।
তবে ইনজুরি সময়ে আরেকটি গোল পায় নরওয়ে। কর্নার থেকে সৃষ্ট চাপের মুখে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন ইরাকের এক ডিফেন্ডার। আত্মঘাতী সেই গোলেই ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় নরওয়ের।
দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে বড় জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করায় আত্মবিশ্বাসে ভরপুর নরওয়ে। অন্যদিকে জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স দেখিয়ে আবারো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন আর্লিং হলান্ড। বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতেও তার ওপরই বড় আশা থাকবে নরওয়ের।


