শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ব্যাপক সমালোচনা, ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বিরোধিতা এবং ইউরোপের দেশগুলোর বয়কটের হুমকির মুখে পরিকল্পনাটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপ পরিচালনার জন্য নতুন একটি কোম্পানি গঠন করে সেখানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। প্রস্তাব অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় বাণিজ্যিক কার্যক্রম একটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের অধীনে নেয়া হতো। সেই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির কথা ছিল।
তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। ফিফার ভেতরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো জানান, আপাতত এই প্রকল্প আর এগোবে না।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সব পক্ষের মতামত শোনার পর বোঝা গেছে, এই প্রকল্প এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শুরুতে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণের পথে সহায়ক নয়।’
সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ফিফার অভ্যন্তর থেকেই। বিশ্বকাপ–সংক্রান্ত হোয়াইট হাউস টাস্কফোর্সে ফিফার প্রতিনিধি থাকা কার্লোস কর্দেইরো প্রতিবাদ জানিয়ে সভাপতির উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দেন। পদত্যাগের পর তিনি বলেন, ‘ফিফা যখন বিশ্বকাপের অংশ বিক্রির কথা বিবেচনা করছে, তখন আমি পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না।’ একইসাথে তিনি অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান।
পরে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামোরও পরিকল্পনার সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে ফিফার কর্মীদের যথেষ্ট তথ্যই দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘এটি একজন ব্যক্তির প্রকল্প। শুধু এই প্রকল্প বন্ধ হওয়া নয়, এখন ফুটবলের নেতাদের নিজেদের সঠিক প্রশ্ন করা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে।’
ফিফার ওপর চাপ আরো বাড়িয়ে দেয় উয়েফা। সংস্থাটির ৫৫ সদস্য দেশ বিশ্বকাপসহ সব ফিফা প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দেয়। তাদের ভাষ্য, কিছু বিষয় বিক্রি করার মতো নয়। পরে কনকাকাফ ও এএফসিও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নিউইয়র্কভিত্তিক একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানকে প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত করার কথা ছিল। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছেন জোশুয়া কুশনার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ছোট ভাই।
পরিকল্পনা বাতিলের পর ইনফান্তিনো জানান, এখন সব পক্ষকে নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার চেষ্টা করবেন তিনি, যাতে ফুটবলের উন্নয়নের পথ খুঁজে বের করা যায়।
তবে এই ঘটনাকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়া ইনফান্তিনোর বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, তিনি আরো একবার চার বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রির এই ব্যর্থ উদ্যোগ তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



