চ্যাম্পিয়নস লিগে অঘটনের ফাঁদে রিয়াল মাদ্রিদ। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দলটাকে ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়েছে বেনফিকা। অবিস্মরনীয় জয়ে তারা জায়গা নিশ্চিত করল নকআউটে।
লিসবনে বুধবার রাতে প্রাথমিক পর্বের শেষ রাউন্ডে হিসেব গড়মিল হয়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদের। লস ব্লাঙ্কোজদের ৪-২ গোলে হারিয়ে দিয়েছে জোসে মরিনহোর দল।
এই হারে শীর্ষ আটে থেকে সরাসরি শেষ ষোলোতে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করল রিয়াল মাদ্রিদ। হেরে নবম হয়ে তারা জায়গা পেল নকআউট প্লে-অফে, যেখানে জায়গা পেল বেনফিকাও।
বল দখলে অনেকটাই পিছিয়ে থাকা বেনফিকা আক্রমণে আধিপত্য করে দারুণভাবে। একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। ঘর সামলাতে ব্যস্ত সময় কাটছিল সফরকারীদের।
তবে প্রথম গোল পায় রিয়াল মাদ্রিদই। ৩০তম মিনিটে রাউল আসেন্সিওর ক্রসে সফল হেডে দলকে এগিয়ে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ যদিও স্থায়ী হয়নি তাদের।
গোল হজমের ৬ মিনিট পরই সমতা টানে বেনফিকা। ডান দিক থেকে সতীর্থের ক্রস ফাঁকায় পেয়ে জোরাল হেডে সমতা টানেন নরওয়ের তরুণ ফরোয়ার্ড আন্দ্রেয়াস শেলদ্রোপ।
এরপর বিরতির আগের যোগ করা সময়ে এগিয়ে যায় বেনফিকা। ডি-বক্সে নিকোলাস ওতামেন্দিকে রিয়ালের অহেলিয়া চুয়ামেনি ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় তারা। যেখান থেকে স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন পাভলিদিস।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও একইভাবে ভুগতে দেখা যায় রিয়ালকে। ৫৪তম মিনিটে আবারো পিছিয়ে পড়ে তারা। ডি-বক্সে একজনকে কাটিয়ে কাছের পোস্ট ঘেঁষে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন শেলদ্রোপ।
স্কোর ৩-১ হওয়ার পর অবশ্য এই দফায় পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি রিয়াল। ডান দিক থেকে গিলেরের পাস ফাঁকায় পেয়ে নিচু শটে ব্যবধান কমান এমবাপ্পে। স্কোর তখন ৩-২।
তবে এই ব্যবধান যথেষ্ট ছিল না বেনফিকার চ্যাম্পিয়নস লিগে টিকে থাকতে। দলটির দরকার ছিল আরেকটি গোল। অন্যদিকে সরাসরি শেষ ষোলোয় খেলতে রিয়ালেরও দরকার ছিল আরো এক গোল।
যে সমীকরণ মেলাতে পেরেছে বেনফিকা, তবে পারেনি রিয়াল। উল্টা যোগ করা সময়ে রিয়ালের দু’জন দেখে বসেন লাল কার্ড। লাল কার্ড দেখেন রাউল আসেন্সিও ও রদ্রিগো। ৯ জনের দল হয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।
এমতাবস্থায় দলকে প্লে-অফে টিকিয়ে রাখতে নিজের পোস্ট ছেড়ে আক্রমণে উঠে আসেন বেনফিকার গোলকিপার আনাতলি ত্রুবিন।
আর যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে ফ্রি কিক থেকে পাওয়া বলে হেড করে বসেন তিনি।
তার গোলেই মার্শেইকে বিদায় করে ২৪তম হয়ে নকআউট প্লে-অফে উঠে আসে বেনফিকা।



