চ্যাম্পিয়নস লিগ : প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্সেনাল

ম্যাচের এই প্রথমার্ধটিতে গোল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে খুবই কম, যার মূল কারণ আর্সেনালের জমাট রক্ষণভাগ। তারা নিজেদের নেয়া একমাত্র শটটি থেকেই গোল আদায় করে নিয়েছে। অন্যদিকে পিএসজি তাদের নেয়া চারটি শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি, যার সবশেষ প্রমাণ দেম্বেলের আরেকটি শট বারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যাওয়া।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় রেফারির বাঁশিতে ম্যাচ শুরুর পর পাসিং ফুটবল দেখা আর খোশগল্পে মত্ত ছিলেন বুদাপেস্টের পুসকাস স্টেডিয়ামে আসা অনেক দর্শক। তারা তখনো গ্যালারির সিটে ঠিকঠাক থিতু হতে পারেননি। ঠিক তখনই পিএসজিকে স্তব্ধ করে অঘটনের জন্ম দেন কাই হাভার্টজ। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই এই জার্মান ফরোয়ার্ডের গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। শুরুর সেই ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধে আর ম্যাচে ফেরা হয়নি পিএসজির।

প্রথমার্ধে রক্ষণ জমাট রেখে খেলেছে আর্সেনাল। প্রায় ৭৭ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেও সুবিধা আদায় করতে পারেনি পিএসজি। বিপরীতে ২৩ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলমুখে একটি শট নিয়ে একটি থেকেই সুবিধা আদায় করে গানাররা। পিএসজি চারটি শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।

২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে চেলসির হয়ে জয়সূচক গোল করা কাই হাভার্টজই আজও আর্সেনালের হয়ে প্রথম গোল খাতা খুলে দেন! অবশ্য কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়াও পেয়েছে আর্সেনাল। মার্কিনিউস একটি ক্লিয়ারেন্স ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে সরাসরি চলে আসে হাভার্টজের পায়ে।

বল নিয়ে বাঁ দিক দিয়ে দারুণ গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। সামনে তখন কেবল ছিলেন গোলকিপার সাফোনভ। বক্সের কোণাকুণি ও বেশ কঠিন একটা কোণ থেকে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বুলেট গতিতে বল জালে জড়ান হাভার্টজ। বল গিয়ে আশ্রয় নেয় নেট-এর ওপরের ডান কোণায়।

২৬তম মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বুকোয়া সাকার ক্রস থেকে দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো আবারো। তবে সাফোনভ দেখান শ্রেষ্ঠত্ব। একপ্রকার জীবনবাজি রেখে লাফ দিয়ে হাত দিয়ে বিপদমুক্ত করেন। এ সময় ট্রোসার্ডের পয়ের সাথে লেগে আঘাতও পান রাশিয়ান গোলকিপার। কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে খেলা। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবারও গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ান সাফোনভ।

৩৬তম মিনিটে বুকোয়া সাকাকে বাঁধা দিতে গিয়ে অনর্থক একটি ফ্রি-কিক বিলিয়ে দেন মেন্দেস। ডিক্লান রাইসের দারুণভাবে ভাসিয়ে দেয়া ফ্রি-কিকটিতে মাথা ছুঁইয়েছিলেন হাভার্টজ। তবে তার নেয়া হেডারটি পোস্টের অনেক দূর দিয়ে বাইরে চলে যায়।

শেষ দিকে আর্সেনালের ১১ জন খেলোয়াড়ের সবাই তখন নিজেদের রক্ষণভাগের এক-তৃতীয়াংশে (ডিফেন্সিভ থার্ডে) নেমে আসেতবে অবশেষে পিএসজি আক্রমণের একটি ফাঁক খুঁজে পায়। মসকেরাকে ফাঁকি দিয়ে বল কাটিয়ে বক্সে বাড়ান মেন্দেস। হিনকাপিয়ের ক্লিয়ারেন্সটি বক্সের বাইরে থাকা ফ্যাবিয়ানের কাছে চলে যায়। বল পেয়ে দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে গোলের উদ্দেশ্যে হেড করেন তিনি। তবে শটটি লক্ষ্যে থাকেনি।

ম্যাচের এই প্রথমার্ধটিতে গোল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে খুবই কম, যার মূল কারণ আর্সেনালের জমাট রক্ষণভাগ। তারা নিজেদের নেয়া একমাত্র শটটি থেকেই গোল আদায় করে নিয়েছে। অন্যদিকে পিএসজি তাদের নেয়া চারটি শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি, যার সবশেষ প্রমাণ দেম্বেলের আরেকটি শট বারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যাওয়া।