আলজেরিয়াকে ২–০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আলজেরিয়া আক্রমণের গতি বাড়ালেও সুইজারল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত ব্যবধান অক্ষুণ্ন রেখে সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সুইসরা।

ক্রীড়া ডেস্ক
আলজেরিয়াকে ২–০ গোলে হারানোর পর সুইজারল্যান্ডের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস
আলজেরিয়াকে ২–০ গোলে হারানোর পর সুইজারল্যান্ডের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস |সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে সুইজারল্যান্ড। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর ম্যাচে আলজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দলটি। একই সাথে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৮৮ বছর পর জয়ের স্বাদ পেল সুইসরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সুইজারল্যান্ড। এর সুফলও পেয়ে যায় খুব দ্রুত। ১১তম মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ব্রিল এমবোলো। মাঝমাঠ থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগকে ভেঙে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন এই ফরোয়ার্ড। শুরুতে ভালো খেললেও এই গোল হজমের পর কিছুটা ছন্দ হারিয়ে ফেলে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

গোল শোধে প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সুইস রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় সফল হতে পারেনি আলজেরিয়া। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডও ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। তবে প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আরো চাপে পড়ে আলজেরিয়া। বিরতির পর ৪৬তম মিনিটেই ড্যান এনদোয়ে দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। বক্সের বাইরে থেকে নেয়া তার শক্তিশালী শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়। এই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সুইজারল্যান্ড।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আলজেরিয়া আক্রমণের গতি বাড়ালেও সুইজারল্যান্ডের সংগঠিত রক্ষণ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত ব্যবধান অক্ষুণ্ন রেখে সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে সুইসরা।

এই জয়ে শুধু শেষ ষোলোর টিকিটই নিশ্চিত হয়নি, ইতিহাসও গড়েছে সুইজারল্যান্ড। ১৯৩৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেল দলটি। দীর্ঘ ৮৮ বছরের অপেক্ষার অবসানে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত সুইস সমর্থকরা।

শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া অথবা ঘানা। দুই দলের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের জন্য লড়বে সুইসরা। এমবোলো, এনদোয়ে এবং শক্তিশালী রক্ষণভাগের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে এবারের বিশ্বকাপে আরো অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে সুইজারল্যান্ড।