ফ্রান্সের গতির সামনে কৌশল বদলাবে না স্পেন

‘পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বলেছিলাম, দুই দলের বৈশিষ্ট্য প্রায় একই। কিন্তু এবার বিষয়টি ভিন্ন। ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের গতি। তাই আমাদের নিজেদের ফুটবলই খেলতে হবে। আমরা জানি কোথায় আমাদের দুর্বলতা আছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন

বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বিস্ফোরক গতি, অন্যদিকে স্পেনের নিখুঁত পাসিং আর বল দখলের ছন্দ। দুই দলের খেলার দর্শন একেবারেই ভিন্ন।

প্রতিপক্ষের শক্তিকে যথেষ্ট সমীহ করছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে সে কারণে নিজেদের খেলার ধরন বদলানোর কোনো প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। পরিচিত কৌশলেই ফ্রান্সকে টানা তৃতীয়বার হারানোর প্রত্যয় স্প্যানিশ কোচের।

এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয় নিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার পর শেষ ৩২, শেষ ১৬ ও কোয়ার্টার-ফাইনাল—প্রতিটি নকআউট ম্যাচই নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জিতে নিয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল।

গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ও ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবারো শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে আছেন দারুণ ছন্দে। দুজনে মিলেই দিয়েছেন ১৩টি গোল।

অন্যদিকে স্পেনের যাত্রা শুরু হয়েছিল কিছুটা ধীরগতিতে। বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে অভিযান শুরু করলেও পরে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

নকআউট পর্বেও কোনো ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে না গড়িয়েই শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আসরে এখন পর্যন্ত ১১ গোল দিয়ে মাত্র ১টি গোল হজম করেছে তারা।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাসে মুখোমুখি হবে দুই দল। এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেদের বিপক্ষে গত তিন বছরে এটি হবে স্পেনের তৃতীয় ম্যাচ।

আগের দুই দেখায়ই জয় পেয়েছে দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা—২০২৪ ইউরোর সেমি-ফাইনাল ও ২০২৫ নেশন্স লিগের সেমি-ফাইনালে। এবার আরো একবার শেষ চারের ম্যাচে মুখোমুখি তারা।

পুরনো সাফল্য আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও বর্তমান ফরাসি দলকে আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত বলেই মনে করছেন স্পেন কোচ।

‘যেকোনো প্রতিযোগিতার এই পর্যায়ে ফ্রান্স সবসময়ই শিরোপার অন্যতম দাবিদার। বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ওঠা খুব কঠিন। এখানে প্রতিটি দলই শক্তিশালী, আমরাও তার ব্যতিক্রম নই।’

দে লা ফুয়েন্তের বিশ্বাস, দুই বছর আগের ফ্রান্সের সাথে বর্তমান দলের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ‘অনেক খেলোয়াড় একই থাকলেও এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দল। তাদের খেলার ধরন ও কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। আমার মনে হয়, দুই দলই আগের চেয়ে আরো উন্নত হয়েছে।’

স্পেন কোচের মতে, সেমি-ফাইনালে লড়াই হবে দুই বিপরীতধর্মী ফুটবল দর্শনের। তাই প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকলেও নিজেদের খেলার পরিচয় বদলাতে চান না তিনি।

‘পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বলেছিলাম, দুই দলের বৈশিষ্ট্য প্রায় একই। কিন্তু এবার বিষয়টি ভিন্ন। ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের গতি। তাই আমাদের নিজেদের ফুটবলই খেলতে হবে। আমরা জানি কোথায় আমাদের দুর্বলতা আছে।’

‘কখনো কখনো রক্ষণ অরক্ষিত হয়ে পড়ে, তবে দলগত ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি।’ শেষ পর্যন্ত নিজের দলের দর্শনের ওপরই ভরসা রাখছেন ইউরোজয়ী এই কোচ।

‘ফ্রান্স কতটা শক্তিশালী, সেটা আমরা জানি। কিন্তু নিজেদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসব না। প্রয়োজন হলে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন আনব। তবে আমাদের বিশ্বাস, নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলেই ফ্রান্সকে হারানো সম্ভব। সবশেষ দুই ম্যাচে সেটিই প্রমাণ করেছি। এবারও সেই বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামব।’