বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ফুটবলকে পুরোপুরি বাণিজ্যের পণ্যে পরিণত করতে যুক্তরাষ্ট্র সবসময়ই মরিয়া—এমন অভিযোগ বহু আগেই তুলেছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা। রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গন—দুই ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচক ছিলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ চলাকালে 'দে লা মানো দেল ১০' (অর্থাৎ '১০ নম্বরের হাত ধরে'। এখানে '১০ নম্বর' বলতে ম্য্যারাডোনাকেই বোঝানো হয়েছে, কারণ তার জার্সি নম্বর ছিল ১০।) নামে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উরুগুয়ের ভাষ্যকার ভিক্টর উগো মোরালেসের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “আমেরিকানরা বিজ্ঞাপনের জন্য খেলাকে ২৫ মিনিট করে চার ভাগে ভাগ করতে চায়।” চিলির সংবাদমাধ্যম লা তের্সেরা গত ১ জুলাই সেই বক্তব্য নতুন করে প্রকাশ করার পর তা আবারো আলোচনায় উঠে আসে।
ফুটবল ৩৬০ডটকম সোমবার (২০ জুলাই) জানিয়েছে, নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও স্পেনের বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমবারের মতো হাফটাইম শোর আয়োজন করা হয়। ফুটবলের আইন প্রণেতা সংস্থা আইএফএবি'র নিয়ম অনুযায়ী বিরতি সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট হওয়ার কথা। অথচ জাস্টিন বিবার, শাকিরা, ম্যাডোনা, টেড ল্যাসো, সিসেমি স্ট্রিট ও দ্য মাপেটসকে নিয়ে জমকালো আয়োজন চলে ২৭ মিনিট ২২ সেকেন্ড। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদিনহো ও রোনালদোও। ফলে ফাইনালের বিরতি আনুষ্ঠানিকভাবেই আইএফএবি'র নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে।
এই দীর্ঘ বিরতি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট–এর প্রধান ফুটবল লেখক মিগুয়েল ডিলেনি একে “ফুটবলবিরোধী বিকৃতি” বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, খেলোয়াড়েরা সারা ক্যারিয়ার স্বাভাবিক বিরতিতে অভ্যস্ত। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ম্যাচে সেই ছন্দ ভেঙে দেয়া উচিত নয়।
ইংল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েইন রুনি বিবিসিকে বলেন, “অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আমার মনে হয়েছে, এটা একেবারেই বাজে ছিল।”
ঘানার সাবেক আন্তর্জাতিক কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেংও দীর্ঘ বিরতির সমালোচনা করে বলেন, বিরতিটা এতটাই লম্বা ছিল যে খেলোয়াড়েরা পুরোপুরি বিশ্রাম পেয়ে গেছে। তবে তিনি খুশি, শেষ পর্যন্ত আবার ফুটবল শুরু হয়েছে।



