বিশ্বকাপ শেষ হতেই ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিশ্বকাপের বছরে এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চের পারফরম্যান্স বড় ভূমিকা রাখলেও এবার লড়াইটা হয়ে উঠেছে বেশ জমজমাট।
এমন কোনো তারকা নেই, যাকে এককভাবে সবার ওপরে রাখা যায়। এই পরিস্থিতিতে ক্রীড়া স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএন তাদের মতামত দিয়েছে। সেখানে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তারা এগিয়ে রেখেছে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে। শীর্ষ পাঁচে জায়গা পেয়েছেন লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসিও।
তালিকার শীর্ষে থাকা হ্যারি কেইন বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও পুরো মৌসুমে ছিলেন দুর্দান্ত ধারাবাহিক। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে করেছেন ৭০ গোল। বায়ার্ন মিউনিখকে জিতিয়েছেন বুন্দেসলিগা শিরোপা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তুলেছেন রানার্সআপের আসনে।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ৬ গোল করে দলকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাকে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রেখেছে।
দ্বিতীয় স্থানে আছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে খেললেও পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। এরপরও স্পেনের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। ক্লাব ফুটবলেও বার্সেলোনাকে লা লিগা জেতাতে দারুণ পারফরম্যান্স ছিল তার।
তৃতীয় স্থানে রয়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা রদ্রি। বিশ্বকাপে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে জিতেছেন গোল্ডেন বল। ক্লাব পর্যায়ে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও জাতীয় দলের হয়ে তার প্রভাব ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
চতুর্থ স্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ছিলেন অনন্য। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। একই সাথে ২২ গোল নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন তিনি। তবে বড় দলীয় ট্রফির অভাব তার অবস্থানকে কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে।
শীর্ষ পাঁচের শেষ নামটি লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন তিনি। টুর্নামেন্টে করেছেন ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট, জিতেছেন সিলভার বল ও সিলভার বুট।
তবে ইউরোপের বাইরে এমএলএসে খেলা এবং ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হার তার সম্ভাব্য নবম ব্যালন ডি’অরের পথকে কিছুটা কঠিন করে তুলেছে।
বিশ্বকাপ ও ক্লাব মৌসুম—দুইয়ের পারফরম্যান্স মিলিয়ে এবার ব্যালন ডি’অরের লড়াই আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার কার হাতে ওঠে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।



