আবারো এমবাপ্পে ম্যাজিক, পূরণ করলেন মেসির শূন্যস্থান

জোড়া গোল করে মেসির পথেই ছুটছেন যেন এমবাপ্পে। নিজের শততম ম্যাচের মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি বসে গেছেন মিরোসাভ ক্লোসার পাশে। কয়েক ঘণ্টা আগেও যেখানে ছিলেন মেসি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বল নিয়ে ছুটছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে
বল নিয়ে ছুটছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে |ইন্টারনেট

ছুটছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। আবারো ফ্রান্সের জয়ের নায়ক তিনি। করেছেন জোড়া গোল। অন্যদিকে বিশ্বকাপে গোলের খাতা খুলেছেন উসমান দেম্বেলেও। তাতে উড়ে গেছে ইরাক।

ঝড়-বৃষ্টি-বজ্রপাত; চার ঘণ্টার ফুটবল ম্যাচ দেখলো বিশ্ব। সেই সাথে দেখল এমবাপ্পে ঝলক। তার জোড়া গোলে নক আউট নিশ্চিত করার পথে ফিলাডেলফিয়ায় ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে ফ্রান্স।

এদিকে জোড়া গোল করে মেসির পথেই ছুটছেন যেন এমবাপ্পে। নিজের শততম ম্যাচের মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি বসে গেছেন মিরোসাভ ক্লোসার পাশে। কয়েক ঘণ্টা আগেও যেখানে ছিলেন মেসি।

বিশ্বকাপে এখন ক্লোসার সমান ১৬ গোল এমবাপ্পের। তবে বিশ্বমঞ্চে সর্বোচ্চ ১৮ গোল নিয়ে শীর্ষে মেসি। শেষ দুই গোল তিনি করেছেন গতরাতেই। অন্যথায় এমবাপ্পে-মেসি একসাথেই থাকতেন!

সব মিলিয়ে শততম ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল এখন ৬০।

প্রথম গোলটা এমবাপ্পে করেন একদম নিখুঁতভাবে-হিসেব কষে। যেন মনে হচ্ছিল সূত্র মিলিয়ে বল জালে জড়িয়েছেন। মাইকেল ওলিসের থেকে বল পেয়ে মাত্র ১৪ মিনিটেই জাল কাঁপান তিনি।

প্রথমার্ধ শেষ হয় সেই ১ গোলের ব্যবধানেই। তবে বিরতি শেষ হতেই শুরু হয় বজ্রঝড় ও বিদ্যুৎ চমক। এমতাবস্থায় ম্যাচ দীর্ঘ সময় স্থগিত থাকে। প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ভোর ৬টায় দ্বিতীয়ার্ধ পুনরায় শুরু হয়।

লম্বা বিরতিতেও বদলে যাননি এমবাপ্পে। ফিরে এসে আবারো জ্বলে ওঠেন তিনি। ৫৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে তিনি ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। যদিও এতে অবদান ছিল ইরাকের।

বক্সে ইরাকের ডিফেন্ডার আহমেদ কাসেম পাস দেন গোলরক্ষকের উদ্দেশে, বল একটু বেশি জোরে চলে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি আহমেদ বাসিল। বল পেয়ে যান উসমান দেম্বেলে, যা তিনি নিঃস্বার্থভাবে বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পের দিকে। আর বল পেয়ে সহজেই জালে পাঠান ফ্রান্সের রেকর্ড স্কোরার। বসে যান জার্মান কিংবদন্তি মিরোসাভ ক্লোসার পাশে।

এরপর অবশ্য গোল পেয়েছেন দেম্বেলে নিজেও। ৬৬ মিনিটে ওলিসের আরো একটি সহায়তায় জালের দেখা পান তিনি, যা বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল। আগে আরো দুই বিশ্বকাপ ও ৭ ম্যাচ খেলেও গোল পাননি তিনি।

বাকি সময়ে ব্যবধান আরো বাড়ানোর সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি কেউ। ইরাকও পায়নি জালের দেখা। ফলে ৩-০ গোলের জয় নিয়েই নক আউটে উঠে যায় ফ্রান্স।