লড়াই করতে পারেনি বাংলাদেশ, উত্তর কোরিয়ার বড় জয়

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে চীনের সাথে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে মোট হজম করলো ৭ গোল। বিপরীতে প্রতিপক্ষের জালে এখনো বল পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ।

আফ্ফান উসামা
দুই ফুটবলারের বল দখলের লড়াই
দুই ফুটবলারের বল দখলের লড়াই |নয়া দিগন্ত

একপেশে ম্যাচ হবে জানাই ছিল, একটুখানি লড়াই কেবল চাওয়া ছিল। লড়াই হলো বটে, তবে তার সবটাই করলেন গোলরক্ষক মিলি। তাতেও অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি, বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (৬ মার্চ) এশিয়ান কাপে সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। যেখানে আজও মেলেনি জালের দেখা, ৫-০ গোলে হেরেছে টাইগ্রেসরা।

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে চীনের সাথে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে মোট হজম করলো ৭ গোল। বিপরীতে প্রতিপক্ষের জালে এখনো বল পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ।

পরপর দুই ম্যাচ জিতে ‘বি’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলের শীর্ষে উত্তর কোরিয়া। তারা সুপার এইট নিশ্চিত করেছে। এক খেলায় এক জয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে চীন।

কোরিয়ার কাছে এদিন পরাজয়টা আরো বেশি হলেও হতে পারত। তবে গোলকিপার মিলি এই ম্যাচেও ছিলেন অসাধারণ। অন্তত ছয়টি পরিষ্কার গোল সেভ করেছেন তিনি। এদিন পঞ্চম মিনিটেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হয় মিলিকে। বক্সে ঢুকে হান জিং হংয়ের নেওয়া গতিময় শট ক্ষীপ্রতায় ঠেকিয়ে দিয়েছেন তিনি। ১১ মিনিটে আবারো হংয়ের নিশ্চিত গোল আটকে দিয়ে মিলি

উত্তর কোরিয়া জালের দেখা পায় ১৪তম মিনিটে। কিন্তু ভিএআর জানায়, সেটি হ্যান্ডবল ছিল। ২৬ মিনিটে আবারো কোরিয়ানদের উল্লাস আটকে দেয় ভিএআর, অফসাইডের কারণে বাতিল হয় গোল। ৩১ মিনিটে আবারো জালের দেখা পায় কোরিয়া। এবার সরাসরি অফসাইডে থাকার কারণে গোল বাতিল হয়। পরপর তিন দফায় ভাগ্যের কারণে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ৪৩ মিনিটের মাঝে তিনি তিনটি পরিবর্তন আনেন কোচ পিটার বাটলার। মাঠে নামান স্বপ্না রানী, আনিকা ও উমেলাহকে। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি, অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে বাঁধ ভেঙে যায়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের ৫ম মিনিটে পেনাল্টি পায় কোরিয়া। হান ঝিংকে বক্সে আফঈদা ফেলে দিলে পেনাল্টির বাশি বাজান রেফারি। সফল স্পটকিক নেন মিয়ং জং। গোলমুখ খুলে কোরিয়ার। পরের দুই মিনিটের মাথায় গোল করেন কিম কিয়ং ইয়ংয়। ২ মিনিটে জোড়া গোল হজম করে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধে উত্তর কোরিয়া ১৬টি শট নিলেও বাংলাদেশ একটি শটও নিতে পারেনি। চীনের বিপক্ষে আগের ম্যাচে যে লড়াকু বাংলাদেশ দেখা গিয়েছিল, কোরিয়ার বিপক্ষে সেই ছন্দ ছিল অনুপস্থিত।

বিরতির পর ৬০ মিনেটর মাঝে পরপর দু’টি সেভ করেন মিলি। তবে এরপর আর কোরিয়াকে আটকে রাখতে পারেননি তিনি, আবারো ২ মিনিটে হজম করেন জোড়া গোল।

৬২ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার হয়ে তৃতীয় গোল করেন চা উন ইয়ং। আর ৬৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন কিম কিয়ং ইয়ং। আর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ব্যবধান ৫-০ করেন কিম হাই ইয়ং।

পুরো ম্যাচেই বাংলাদেশ ছিল নিস্প্রভ, বলার মতো কোনো আক্রমণ শাণাতে পারেনি। রক্ষণভাগও রাখতে পারেনি তেমন ভূমিকা। তাতে কোয়ার্টার ফাইনাল স্বপ্ন ধূসর হয়ে গেছে অনেকটাই।

আগামী সোমবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তিন গ্রুপে তৃতীয় হওয়া সেরা দুই দলের একটি হয়ে শেষ আটে যেতে সেই ম্যাচে জিততেই হবে আফঈদা-ঋতুপর্ণাদের।