বিশ্বকাপের আলো নিভতেই শেষ হলো গিয়ের্মো ওচোয়ার বর্ণাঢ্য ফুটবল অধ্যায়। দীর্ঘ ২২ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারের ইতি টেনে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক। শেষ হলো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক গোলরক্ষকের পথচলা।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক আবেগঘন বার্তায় ৪১ বছর বয়সী ওচোয়া জানান, মাঠে আর ফিরবেন না তিনি। ক্যারিয়াজুড়ে ক্লাব ও জাতীয় দলের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
ওচোয়া লেখেন, ‘আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি। ক্লাব ও জাতীয় দলের জন্য মাঠে নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। আর আজ আমি গ্লাভস তুলে রাখছি।’
এরপর গোলরক্ষকের দায়িত্ব কতটা কঠিন, সেটিও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, একজন গোলরক্ষককে অনেক সময় পুরো ম্যাচ অপেক্ষা করতে হয় একটি মুহূর্তের জন্য। আর সেই মুহূর্ত এলে ভুলের কোনো সুযোগ থাকে না।
২০২৬ বিশ্বকাপকে বিদায়ের মঞ্চ হিসেবে আগেই বেছে নিয়েছিলেন ওচোয়া। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত আসরটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। যদিও প্রথম দুই আসরে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। বেঞ্চে বসে থাকতে হয় তাকে।
পরে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন তিনি। তবে তার ক্যারিয়ারের শুরু আর শেষ- দুই স্মৃতিই জড়িয়ে রইল মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামের সাথে।
২০০৪ সালে ক্লাব আমেরিকার হয়ে এখানেই পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল তার। দুই দশকের বেশি সময় পর একই মাঠে শেষ ম্যাচ খেলেই বিদায়ের গল্প লিখলেন তিনি।
চেকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষেই তাকে আবেগঘন বিদায় জানান সতীর্থরা।
ওচোয়াকে শূন্যে ছুড়ে উদযাপন করেন তারা। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে সম্মান জানান মেক্সিকোর এই কিংবদন্তিকে। যদিও সেদিন আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণা দেননি তিনি। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়ে দিলেন, এবার সত্যিই শেষ।
মেক্সিকোর হয়ে ১৫৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ওচোয়া, যার ১২টিই বিশ্বকাপে। কনক্যাকাফ গোল্ড কাপে দেশকে তিনবার (২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩) শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টটির ইতিহাসেও অন্যতম সফল গোলরক্ষকদের একজন হিসেবে বিবেচিত হন।
জাতীয় দলের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন লিগেও নিজের ছাপ রেখেছেন ওচোয়া। ফ্রান্স, স্পেন, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালের ক্লাবে খেলে গড়েছেন সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তার দুর্দান্ত সব সেভ, অদম্য লড়াই আর বড় ম্যাচের পারফরম্যান্সই তাকে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।



