দুই পরাশক্তির লড়াই ঘিরে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে, মনে হচ্ছিলো লড়াই হবে সেয়ানে। তবে মাঠের খেলায় তেমন প্রভাব পড়েনি। স্পেনের কৌশলের কাছে আটকে গেছে ফ্রান্সের গতি। এ যেন অচেনা ফরাসি শক্তি!
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের সেমিফাইনাল এ ম্যাচে ফ্রান্সকে খুঁজেই পাওয়া গেল না। ইউরো চ্যাম্পিয়নদের কাছে ২-০ গোলে হেরে শেষ চার থেকেই বিদায় নিল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে ফাইনালে পৌঁছে গেল স্পেন।
আসর জুড়ে আগুনে গতি আর দাপুটে ফুটবলে মাতানো ফরাসিরা যেন আজ ছিল ছন্নছাড়া। করতে পারেনি প্রতিপত্তি দেখানো আক্রমণ, যে কয়েকটা বল জালের দিকে ছুড়েছে- তাও আটকে দিয়েছেন উনাই সিমন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল, দ্রুত পাস আর ধারাবাহিক আক্রমণে ফরাসিদের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে স্পেন। সেই চাপেরই ফল আসে ২২তম মিনিটে। এগিয়ে যায় ইউরো চ্যাম্পিয়নরা।
মূলত ২০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের বক্সের ভেতর ইয়ামাল ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্পেন। লুকাস দিনিয়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ইয়ামালের পায়ে জোরে আঘাত করেন।
যেখান থেকে স্পটকিক থেকে কোনো ভুল না করে জাল খুঁজে নেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। যা চলতি মৌসুমে স্পেনের হয়ে তার ১৪তম গোল। এর মধ্য দিয়ে গড়েছেন ইতিহাস, এক মৌসুমে স্পেনের হয়ে এত গোল আগে কেউ করেনি।
এত দিন রেকর্ডটি ছিল ডেভিড ভিয়ার দখলে। ২০০৮–০৯ মৌসুমে তিনি করেছিলেন ১৩ গোল। সেই রেকর্ড ভেঙে এখন শীর্ষে উঠে গেলেন ওইয়ারসাবাল।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও স্পেনের সুশৃঙ্খল রক্ষণ ভাঙতে পারেনি দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। দেখা যায়নি ভয়ঙ্কর কিছু।
৪২ মিনিটে ফ্রান্স সমতায় ফেরার সবচেয়ে ভালো সুযোগ তৈরি করে। রাবিওর বাড়ানো বল ধরে এমবাপে স্পেনের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে গেলেও গোলরক্ষক উনাই সিমন দ্রুত বেরিয়ে এসে বল ক্লিয়ার করে দেন।
ফলে প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে স্প্যানিশরা। প্রথমার্ধে চেনা রূপে দেখা যায়নি ফ্রান্সকে। সেই সাথে চোটে পড়েন ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিভা, ২৯ মিনিটে মাঠ ছেড়েছেন তিনি।
প্রথমার্ধে দুই দলই একটি করে হলুদ কার্ড দেখে। ৯তম মিনিটে ফাউলের কারণে সতর্ক হন ফ্রান্সের আদ্রিয়েন রাবিও, আর ৩৩তম মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরো একটি গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ৫৮ মিনিটে দানি ওলমোর সাথে দ্রুত ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন পেদ্রো পোরো। এরপর জাল খুঁজে নিতে সমস্যা হয়নি।
দ্বিতীয় গোল হজম করার পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় ফ্রান্স। ৫৭তম মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার বদলে মাঠে নামানো হয় দেজিরে দুয়েকে। কোচ দিদিয়ের দেশম বদল এনে আক্রমণে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
উল্টো ৬৪ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল গোল করে ম্যাচ প্রায় সিলাগালা করে দিয়েছিলেন! কিন্তু তার করা দারুণ গোলটি বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। স্কোর থাকে ২-০।
ব্যবধান না বাড়লেও টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে শেষ সময়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজন ফ্রান্সের। তবে এমবাপ্পে- উসমান দেম্বেলেরা সেই জাদু দেখাতে পারেননি। তারা যেন ছিলেন আজ একটু বেশিই নিস্প্রভ।
৬৭ মিনিটে এমবাপ্পের শট কুকুরেয়ার গায়ে লেগে কর্নার হলে সেটিই ছিল তাদের এই অর্ধের সেরা সুযোগ। পরে অরেলিয়েন চুয়ামেনির হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আরো কিছু আক্রমণ করলেও তাতে আগ্রাসন ছিল না।
অন্যদিকে স্পেন ছিল গতিময় ও আগ্রাসী। শুরু থেকে ফ্রান্সের ওপর চাপ তৈরি করেছে তারা। জমাট রক্ষণ, গতিময় মিডফিল্ড ও আগ্রাসী আক্রমণ মিলে অবিশ্বাস্য ফুটবল উপহার দিয়েছে তারা।
যার ফল ইউরো চ্যাম্পিয়নরা শেষ পর্যন্ত পেয়েছে ফাইনাল নিশ্চিত করে। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল তারা।
আগামী রোববার দিবাগত রাতে ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল।



