আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুই শতাধিক ম্যাচ খেলেছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ জিতেছেন, অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন, প্রায় সব পরাশক্তির বিপক্ষেই মাঠে নেমেছেন। কিন্তু এত দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে একটি অধ্যায় ছিল অপূর্ণ—ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনোই খেলেননি তিনি।
অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বুধবার রাতে আটলান্টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। আর এই ম্যাচ দিয়েই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইংলিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী।
বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডই একমাত্র দল, যার বিপক্ষে কখনো খেলা হয়নি মেসির। মেসির অভিষেকের পর দুই দেশের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০০৫ সালের নভেম্বরে জেনেভায় একটি প্রীতি ম্যাচে। তবে সেই ম্যাচেও ছিলেন না মেসি।
হাঙ্গেরির বিপক্ষে নিজের অভিষেক ম্যাচে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মাথায় লাল কার্ড দেখায় নিষেধাজ্ঞার কারণে থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে ম্যাচটা খেলতে পারেননি তিনি। মেসিবিহীন সেই ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।
দীর্ঘ ২১ বছর পর আবার মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই চিরচেনা পরাশক্তি। তবে এবার লড়াইটি প্রীতি ম্যাচের নয়, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মঞ্চে। যেখানে একদল আছে টানা দ্বিতীয় শিরোপার দৌড়ে, অন্যদল ৬০ বছর পর খেলতে চায় ফাইনালে।
তাই এ ম্যাচটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত মেসি। সেমিফাইনাল নিয়ে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটি বিশেষ একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটাই আমার প্রথম ম্যাচ। ইংল্যান্ড ছাড়া প্রায় সব বড় দলের বিপক্ষেই খেলেছি। তারা দারুণ একটি দল, সত্যিকারের পরাশক্তি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এটিকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল হিসেবেই দেখছি। পরাশক্তি একটি দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। এমন দলের বিপক্ষে খেলতে সব সময়ই ভালো লাগে। তাই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে লড়াই করার প্রস্তুতি নেব।’
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ মানেই ফিরে আসে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক কোয়ার্টার-ফাইনাল। দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ আজও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি।
সেই ম্যাচ প্রসঙ্গে মেসি বলেন, ‘আমি সেই ম্যাচ সম্পর্কে যা জানি, সবই ভিডিও আর ছবির মাধ্যমে। আর্জেন্টিনার মানুষ এখনো সেই ম্যাচের স্মৃতি লালন করে। তবে আমরা প্রতিপক্ষ যেই হোক, নিজেদের খেলাটাই খেলতে চাই।’
যদিও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে কখনো মাঠে নামেননি, ক্লাব ফুটবলে ইংলিশ দলগুলোর বিপক্ষে মেসির রেকর্ড দারুণ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ ম্যাচে তিনি করেছেন ২৭ গোল, সাথে রয়েছে ৬টি অ্যাসিস্ট।
বিশেষ করে আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ছিলেন সবচেয়ে বিধ্বংসী; এই দুই দলের বিপক্ষেই করেছেন ১৬ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরো তিনটি। অর্থাৎ ক্যারিয়ারের ২১ বছরে এসে দারুণ এক চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে মেসি।
প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি
সেমিফাইনালে বুধবার রাতে আটলান্টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। আর এই ম্যাচ দিয়েই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইংলিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী। বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডই একমাত্র দল, যার বিপক্ষে কখনো খেলা হয়নি মেসির।



