এশিয়ান কাপ খেলতে আসার পর দেশে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় ইরানের পাঁচ নারী ফুটবলারকে আশ্রয় দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি ব্রুক।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ গোল্ড কোস্টে তাদের হোটেল থেকে পাঁচ খেলোয়াড়কে একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়, যেখানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়ের আবেদন করেন। পরে তাদের ভিসা অনুমোদন করা হয়।
বার্ক বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেয়া প্রতিটি ফুটবলারের জন্য কতটা কঠিন ছিল, তা কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু গতরাতে সেখানে আনন্দ ও স্বস্তির অনুভূতি ছিল। তারা অস্ট্রেলিয়ায় নতুন জীবন শুরু করতে পেরে উচ্ছ্বসিত।’
মন্ত্রী জানান, আশ্রয় পাওয়া খেলোয়াড়রা তাদের নাম ও ছবি প্রকাশে রাজি হয়েছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে তারা ‘রাজনৈতিক কর্মী নন’।
এশিয়ান কাপ খেলতে ইরান জাতীয় নারী ফুটবল দল গত মাসে অস্ট্রেলিয়ায় আসে। এরপরই ইরানে যুদ্ধ শুরু হয়। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়ার পর তাদের দেশে ফিরে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।
দলের কোচ মারজিয়ে জাফারি আগেই বলেছিলেন, খেলোয়াড়রা যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চান। তবে পরিস্থিতি নিয়ে তারা খুব কমই প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে ফরোয়ার্ড সারা দিদার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তারা নিজেদের পরিবার, বন্ধু এবং ইরানের মানুষের জন্য খুবই উদ্বিগ্ন।
দলের প্রথম ম্যাচের আগে ইরানের নারী ফুটবলাররা জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ এটিকে প্রতিবাদ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ মনে করেছেন এটি শোক প্রকাশের ইঙ্গিত।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী এন্থনি আলবানিস বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ানরা এই সাহসী নারীদের পরিস্থিতিতে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এখানে তারা নিরাপদ। তাদের নিজেদের ঘরের মতোই অনুভব করা উচিত।’
তিনি জানান, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তারা সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং তারা নিজেরা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে দলের বাকি সদস্যরা এখনো ইরানের কর্মকর্তাদের সাথে রয়েছেন এবং তারা কবে অস্ট্রেলিয়া ছাড়বেন তা স্পষ্ট নয়।
রোববার ম্যাচ শেষে দলের বাস থেকে এক খেলোয়াড়কে আন্তর্জাতিক ‘সাহায্যের সঙ্কেত’ দিতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরো উদ্বেগজনক করে তুলেছে।



