বিধ্বংসী ফ্রান্সে বিধ্বস্ত সুইডেন, এমবাপ্পের নয়া রেকর্ড

এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া সব গোলে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বত্রিশের ম্যাচে সুইডেনকে বুধবার ৩-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। তাদের অন্য গোলদাতা ব্রাডলে বার্কোলা।

ক্রীড়া ডেস্ক
সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর সতীর্থদের ভালোবাসায় ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে
সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর সতীর্থদের ভালোবাসায় ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে |সংগৃহীত

এবার ফ্রান্সের ভয়াল থাবায় ক্ষতবিক্ষত সুইডেন। বিধ্বংসী ফরাসিদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি সুইসরা। অনায়াসেই শেষ ষোলোতে পা রেখেছে কিলিয়ান এমবাপ্পের দল। জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক অধিনায়ক।

এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া সব গোলে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বত্রিশের ম্যাচে সুইডেনকে বুধবার ৩-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। তাদের অন্য গোলদাতা ব্রাডলে বার্কোলা।

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে দুমড়েমুচড়ে দিয়ে সুপার ৩২ পর্বে পা রাখে ফ্রান্স। এই পর্বেও ফ্রান্সের আক্রমণের জোয়ারের সামনে কোনো জবাবই দিতে পারল না প্রতিপক্ষ সুইডেন।

অবশ্য ম্যাচ শুরুর আগে এমন কিছু ঘটার বার্তা দিয়ে রেখেছিলন সুইডিশ কিংবদন্তি ইব্রাহিমোভি৷ ফ্রান্সের শক্তি নিয়ে তিনি স্পষ্টই বলেন ফরাসিদের থামিয়ে দেয়ার অ্যান্টিডোট কারো কাছেই নেই।

বলেন, ‘এই ফ্রান্সকে হারানোর মতো দল আমি খুব বেশি দেখছি না। প্রতিপক্ষ শুধু তখনই সুযোগ পাবে, যদি ফরাসিরা নিজেরা গা এলিয়ে দেয় বা খেলার গতি কমিয়ে দেয়।’

কিন্তু ফ্রান্স গতি কমায়নি, আত্মতুষ্টিতে ভুগেনি। বরং এই জয়ে ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচে ৩ বা তার চেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড গড়ল ফ্রান্স। যার শুরু ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনা থেকে।

সেবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩ গোল করে তারা। এরপর চলতি টুর্নামেন্টে সেনেগাল ও ইরাকের জালে ৩ গোলের পর নরওয়ের বিপক্ষে করে ৪টি গোল। আর এবার তিন গোল দিল সুইডিশদের জালেও।

যেভাবে ম্যাচজুড়ে ফ্রান্স আধিপত্য দেখিয়েছে, ম্যাচ শেষে গোল সংখ্যা আরো বেশি হতে পারত। ম্যাচে ২৫টি শট নিয়ে ১২টি লক্ষ্যে রেখেছে ফ্রান্স, অন্য দিকে সুইডেন শট নিয়েছে ৮টি এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৩টি।

এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিতের পর এবার কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে পেল ফ্রান্স। শনিবার ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম রাত ৩টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে নামবে তারা।

এদিকে এই ম্যাচে জোড়া গোল করে এমবাপ্পে বসে গেছেন লিওনেল মেসির পাশে। তার সমান ৬ গোল নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা আছেন এবারের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে।

আর সব মিলিয়ে এমবাপ্পের গোল এখন ১৮। অর্থাৎ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌড়ে মেসির চেয়ে মাত্র এক গোলে পিছিয়ে আছেন ফরাসি তারকা। মেসির গোল ১৯ টি।

ফ্রান্সের ৩ গোলের দুটিতেই অবদান মাইকেল ওলিসের। তাতেই গড়েছেন একটি কীর্তি। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার অ্যাসিস্ট ৫টি। এক আসরে এত বেশি অ্যাসিস্ট আর কোনো ফুটবলার করতে পারেননি।

এবার ফেরা যাক ম্যাচে। ঢিমেতালে শুরু হওয়া ম্যাচের ২০ মিনিটে মাইকেল ওলিসের থেকে বল পেয়ে জালে জড়ান এমবাপ্পে। যদিও সেই গোল অফসাইডে বাতিল হয়। ৩১ মিনিটে তাকে ফের হতাশ করে পোস্ট।

এরপর আবারো কখনো গোলপোস্ট, কখনো সুইডিশ গোলকিপার ফেরাতে থাকে ফ্রান্সের আক্রমণ। অপেক্ষা ফুরোয় ৪৫ মিনিটে। ওসমান দেম্বেলের থেকে বল পেয়ে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জালে জড়ান এমবাপ্পে।

তাতেই বিশ্বকাপের ১৭তম গোল করে মিরোসাভ ক্লোসাকে টপকে যান তিনি। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফ্রান্স।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ব্যবধান বাড়াতে বেশি সময় লাগেনি ফ্রান্সের। ৫৩ মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে ওলিসেকে খুঁজে নেন অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি। তিনি বল দেন ব্র্যাডলি বারকোলাকে। যা নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জালে জড়ান বারকোলা।

দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে ফ্রান্স। ওলিসের সামনে আসে গোলের একাধিক সুযোগ। তবে জালের দেখা পাননি তিনি। তবে ফ্রান্স তৃতীয় গোল পেয়ে যায় ৭৪ মিনিটে।

নিজের দ্বিতীয় ও ম্যাচের তৃতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। ওলিসের থেকে বল পেয়ে জালে জড়ান তিনি। তাতেই পেয়ে যান বিশ্বকাপে নিজের ১৮তম গোল। এই গোলে একটি বিশ্ব রেকর্ডও গড়েছেন এমবাপ্পে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নক আউট পর্বে সর্বোচ্চ গোলের মালিক এখন তিনি (১০টি)। ৮ বার করে নক আউটে গোলের রেকর্ড আছে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো ও লিওনিদাসের।

এমন সব কীর্তির পরে ৮৪ মিনিটের মাথায় একই সাতগে ওলিসে ও এমবাপ্পেকে তুলে নেন দিদিয়ের দেশম। মাঠ ছাড়ার সময় কোচের কাছ থেকে কুর্নিশ পান এমবাপ্পে। তারা উঠে যাওয়ার পর আর গোল হয়নি।