ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার : মিসরের কোচ

মিসরের কোচ হোসাম হাসান ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগকে বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক উল্লেখ করে ফুটবল অঙ্গনকে মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। ফিফা, খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দেন তিনি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মিসরের কোচ হোসাম হাসান
মিসরের কোচ হোসাম হাসান |সংগৃহীত

মিসরের জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগ ‘বিশ্বের জন্য লজ্জার’। তিনি তাদের পাশে দাঁড়াতে ফুটবল অঙ্গনকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে বিজয় উদ্যাপন করেন হাসান। মঙ্গলবার শেষ ষোলোর ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে মিসর।

আটলান্টায় ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে হোসাম হাসান বলেন, ‘যে ব্যক্তি ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব করে না, তার মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, এটি আমাদের জন্য লজ্জার। শুধু আরব বিশ্বের নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই এটি লজ্জার। বিশেষ করে যারা সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতায় আছেন, অথচ মানুষকে এভাবে অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখেছেন।’

হাসানের বক্তব্যের পর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অনেক সাংবাদিক করতালির মাধ্যমে তার বক্তব্যকে স্বাগত জানান।

মিসরের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হোসাম হাসান ফিফা এবং বিশ্বের ফুটবলারদের ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে আরো সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘ফুটবলকে একটি ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। আমি গণমাধ্যম এবং বিশ্বের সব ক্রীড়াবিদকে, তাদের পরিচয়-পরিচ্ছন্নতা নির্বিশেষে, একটি যৌথ বার্তা পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানাই।’

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণকে বাঁচতে দিন, তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দিন এবং নিজেদের মতো করে জীবনযাপন করতে দিন। এটাই স্বাভাবিক ও ন্যায্য।’

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসঙ্ঘ এ মন্ত্রণালয়ের হতাহতের পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে।

অন্যদিকে, ইসরাইলি সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব অনুযায়ী জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ওপর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় ১,২২১ জন নিহত হয়েছে। ওই হামলায় সময় ২৫১ জনকে পণবন্দী করা হয়।

সূত্র : বাসস