নারী ফুটবল লিগে ৭ জানুয়ারি এক দিনে পাঁচটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে শুদ্ধপুস্করিনি যুব স্পোর্টিং ক্লাব ও কাচারী পাড়া একাদশের ম্যাচে হয়েছে এক নজিরবিহীন ঘটনা। সেই ম্যাচ চালিয়েছেন ৩ মারমা রেফারি। ম্যাচের চার রেফারির তিনজনই ছিলেন মারমা সম্প্রদায়ের। প্রত্যেকই রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার বাসিন্দা।
এই প্রথম বাফুফে আয়োজিত নারী লিগ এক সাথে খেলা চালিয়েছেন তিন মারমা রেফারি। এরা হলেন- মাচিংনু মারমা, মেখিচিং মারমা এবং থুই ম্রা চিং মারমা। মাচিংনু মারমা ছিলেন মূল রেফারি। মেখিচিং ছিলেন সহকারী রেফারি। আর থুই ম্রা চিং ছিলেন চতুর্থ রেফারি। তিন জনই ফুটবলার। প্রত্যেকেই দ্বিতীয় শ্রেনীর রেফারি।
মাচিংনু, মেখিচিং এবং থুই ম্রা তিন জনই ২০২৪ সালে রেফারিং কোর্সে পাশ করেছেন। এরপর রাঙ্গামাটিতে খেলা চালিয়েছেন। জেএফএ কাপেও তাদের ওপর আস্থা রেখেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সেই সূত্র ধরেই এবারের নারী লিগে খেলা চালাচ্ছেন তারা। মাচিংনু একই সাথে সহকারী রেফারির দায়িত্বও পালন করেন।
এর আগে এবারের লিগে সাবেক ফিফা রেফারি জয়া চামকরা সাথে সহকারী রেফারির ভূমিকায় ছিলেন। পরশুই প্রথম মূল রেফারির দায়িত্ব পালন করা।
জেলা পর্যায়ে এখনো খেলেন মাচিংনু মারমা। তা জীবিকার প্রয়োজনেই। তার বাবা মা কেউই নেই। তারা তিন বোন। জীবন চালাতেই রাঙ্গামাটির সুহ্ললা মং ফুটবল অ্যাকাডেমিতে সহকারী কোচের কাজ করেন। সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন খেলা, কোচিং এবং রেফারীং। রাঙ্গামাটিতে ডিগ্রী পড়ছেন তিনি। তবে এখন সেভাবে ফুটবল খেলেন না এই লেফট ব্যাক।
২০২০ সাল থেকে বল পায়ে মাঠে আর অতোটা সিরিয়াস নন তিনি। মাচিংনু জানান, ‘আমার মূল লক্ষ্য ফিফা রেফারি হওয়া। আগের ম্যাচে জয়া আপুর সাথে ম্যাচ চালিয়েছি। খুব ভালো লেগেছে। আরো ভালো লেগেছে যখন আমরা একই জেলার একই উপজেলার এবং একই সম্প্রদায়ের তিন এক সাথে লিগের খেলা চালালাম।’
সৎ মায়ের সংসারে থাকতে হতো মেখিচিং মারমাকে। তার চার বোন ছিলেন। এক বোন আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৭ সালে সু হ্ললা মং অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হন। সেখানে এখন হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া ও ফুটবল খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন মেখিচিং। এই রেফারিং করে আর ফুটবল খেলে অর্জিত টাকা দিয়ে চলে তার জীবন। কারন মা মারা যাওয়ার পর পরিবার থেকে তেমন কোনো সহায়তা পান না।
তিনি জানান, ঢাকা লিগে খেলতে পারিনি। সে আফসোস আছেই। তবে এখন ঢাকায় দেশের সেরা লিগে রেফারি করতে পারছি এটিই অনেক বড় আমার কাছে।’ ইন্টার মিডিয়েটে পড়া এই মেখিচিংয়েও লক্ষ্য ফিফা রেফারি হওয়া।
থুই ম্রা চিং মারমা অবশ্য অন্যদুই জনের মতো নন। তিনি ঢাকায় নারী লিগে খেলেছেন। বিকেএসপিতে ক্যাম্প করা এই ফুটবলার ২০২২ সালে ঢাকা রেঞ্জার্সের হয়ে লিগে খেলেন। ডিগ্রিতে পড়া থাই ম্রা চিংয়ের বাবা-মা জুম চাষ করেন।
তিনি জানান, আমি এখনো ফুটবল খেলি এলাকায়। সাথে করছি রেফারি। স্বপ্ন ছিল ঢাকায় রেফারি করার। সেই সুযোগ হয়েছে।
থুই ম্রা যেখানে থাকেন সেখান থেকে সু হ্ল লা মং অ্যাকাডেমিতে পায়ে হেটে অনুশীলন করতে যেতে ২০/২৫ মিনিট লাগে। অনেক সময় বাড়ী ফেরার সময় সন্ধ্যা হয়ে গেলে বাবা-মাকে ফোন দেন। তখন তারা এসে তাকে বিপদ জনক এলাকা পার করান।



