বিশ্বকাপের হতাশা শেষ করতে চায় ইতালি

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জেনারো গাত্তুসোর অধীনে ইতালি বাছাইপর্বের গ্রুপ ‘আই’-এ দ্বিতীয় স্থানে ছিল
জেনারো গাত্তুসোর অধীনে ইতালি বাছাইপর্বের গ্রুপ ‘আই’-এ দ্বিতীয় স্থানে ছিল |ইন্টারনেট

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দেশ ইতালি আবারো এক সঙ্কটের মধ্যে থেকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে খেলতে নামছে। তবে সবকিছুকে পিছনে ফেলে ১২ বছরের বিশ্বকাপ অনুপস্থিতির অবসান ঘটাতে এবার তারা আশাবাদী।

বৃহস্পতিবার বারগামোতে প্লে-অফের উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইতালি। যেখানে ইতালি মরিয়া হয়ে চেষ্টা করবে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ মিস না করতে।

জেনারো গাত্তুসোর অধীনে ইতালি বাছাইপর্বের গ্রুপ ‘আই’-এ দ্বিতীয় স্থানে ছিল। অনেকটা চঞ্চল স্বভাবের লুসিয়ানো স্পালেত্তিকে বরখাস্ত করার পর আজ্জুরিদের কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছেন নতুন কোচ গাত্তুসো।

তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নরওয়ের কাছে দু’টি বড় পরাজয় মনে করিয়ে দিয়েছে যে ২০ বছর আগে শেষবার বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে জাতীয় দলটি কতটা পিছিয়ে পড়েছে। ওই বিশ্বকাপের দলে গাত্তুসো ছিলেন মিডফিল্ডে। এরপর থেকে ইতালি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতেই পারেনি। ২০১০ সালে শিরোপাধারী হিসেবে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়, চার বছর পরও একই পরিণতি হয়, আর এরপর রাশিয়া ও কাতার বিশ্বকাপে তারা যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি।

গত দুইবারই প্লে-অফে হেরে আজ্জুরিরা বিদায় নেয়, যা ফুটবলপ্রেমী এই দেশের জন্য দারুণ হতাশাজনক ছিল। একই সময়ে ফ্রান্স ও স্পেনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো এগিয়ে গেছে, আর ইতালি আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে।

এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইতালির ক্লাবগুলোর খারাপ পারফরম্যান্স পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপ মিস করলে সেটি প্রায় ‘শেষ ঘণ্টা’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্লে-অফ ম্যাচকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের গাত্তুসো বলেন, ‘আমি মন থেকে আশা করি আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব, এ দলটির সেটা প্রাপ্য। আমরা ছেলেদের ওপর চাপ দিতে পারি না। তারা জানে কী ঝুঁকি রয়েছে। কিছুটা চাপ অবশ্যই থাকবে, কিন্তু আমাদের ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দিতে হবে।’

গাত্তুসোকে শুধু ম্যাচের চাপই নয়, একাধিক ইনজুরির সমস্যাও সামলাতে হচ্ছে। ইনজুরির কারণে তাকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন খেলোয়াড় ছাড়াই খেলতে বাধ্য করছে।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডকে হারাতে পারলে ফাইনালে ইতালির প্রতিপক্ষ হবে ওয়েলস অথবা বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মধ্যে আরেক সেমিফাইনালে বিজয়ী দল।

সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা সান্দ্রো টোনালিকে ঘিরে, যিনি গত সপ্তাহে বার্সেলোনার বিপক্ষে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে কুঁচকিতে চোট পান।

গাত্তুসো জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের ম্যাচের আগে টোনালিকে অনুশীলনে পেতে চান, তবে ২৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের খেলা এখনো নিশ্চিত নয়।

২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের হতাশাজনক বিদায়ের পর থেকে ইতালির হয়ে খেলেননি ফেডেরিকো চিয়েসা। তাকে সোমবার দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। মেডিক্যাল টিম তাকে অনুপযুক্ত ঘোষণা করে।

তার বদলে বোলোনিয়ার নিকোলো কাম্বিয়াগিকে দলে নেয়া হয়েছে।

এদিকে আটালান্টার স্ট্রাইকার জিয়ানলুকা স্কামাক্কা এবং সেন্টার-ব্যাক আলেহান্দ্রো বাস্তোনি ও জিয়ানলুকা মানচিনি চোট থেকে ফেরার চেষ্টা করছেন। আর্সেনালের ডিফেন্ডার রিকার্ডো কালাফিওরিও ট্রেনিং সেন্টারে পৌঁছে কিছুটা অস্বস্তি অনুভব করেছেন বলে জানান গাত্তুসো।

সব মিলিয়ে গাত্তুসো আশা করছেন বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি ঝামেলামুক্ত হবে এবং তার খেলোয়াড়রা ফাইনালে ভাগ্য নির্ধারণী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকবে।