বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনা শেষ হলেও বিতর্ক যেন থামছেই না। ম্যাচ শেষে স্পেনের ফুটবলারদের ওপর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের হামলাসদৃশ আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন। ম্যাচ চলাকালেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মাঝে একাধিকবার উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। তবে শেষ বাঁশির পর যা ঘটে, সেটিই এখন ফুটবল অঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
অভিযোগ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারেদেস হঠাৎ করেই দৌড়ে গিয়ে স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে ধাক্কা দেন। এরপর তার পায়ে লাথি মেরে ফেলে দেন এবং রেফারি থামানোর চেষ্টা করলেও গার্সিয়ার গলা চেপে ধরে আবারো ধাক্কা দেন।
গার্সিয়াকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গাভিও পারেদেসের রোষানলে পড়েন। অভিযোগ, তাকে চোখেমুখে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়। উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে আবারো ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।
এদিকে আর্জেন্টিনার নাউয়েল মলিনাকে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির সাথে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়। আরো বিতর্কের জন্ম দেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ ও সাবেক অধিনায়ক রবের্তো আয়ালা, যিনি স্পেনের দানি ওলমোর গায়ে হাত তোলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একজন ডিসিপ্লিনারি ও এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ করা হয়েছে।
স্প্যানিশ টেলিভিশন চ্যানেল ‘টিভিই’-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে দে লা ফুয়েন্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মর্যাদার একটি দলের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেই সাথে এমন মুহূর্তে স্পেনের খেলোয়াড়দের ধৈর্যের ও সংযমেরও প্রশংসা করেন ফুয়েন্তে।
তিনি বলেন, ‘এত বড় মাপের খেলোয়াড়, যাদের আমি ফাইনালের আগের দিনগুলোতেও প্রশংসা করেছি ও যাদের অসাধারণ একজন কোচ আছে, তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের আগ্রাসন ও উসকানির মুখেও আমাদের খেলোয়াড়রা অসাধারণ সংযম দেখিয়েছে। তারা প্রকৃত পেশাদারের মতো আচরণ করেছে, এজন্য আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।’
উল্লেখ্য এ ঘটনায় তদন্ত করছে ফিফা। ফিফার তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে মারামারিতে জড়িত খেলোয়াড় কিংবা কোচদের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে। পাশাপাশি জরিমানা করা হতে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকেও।



