প্রথমার্ধের প্রায় পুরোটা সময় চীনকে আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, শেষ সময়ে এসে জোড়া গোল হজম করে বসেছে টাইগ্রেসরা।
বিপরীতে নিজেরা অবশ্য কোনো গোল আদায় করতে পারেনি। ফলে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে আফঈদারা।
১৯৮০ সালে সর্বশেষ এশিয়ান কাপে খেলে বাংলাদেশ। তবে নারী এশিয়ান কাপে এবারই প্রথম খেলছে টাইগ্রেসরা। সব মিলিয়ে ৪৬ বছর পর মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এ প্রতিযোগিতায় নেমেছে বাংলাদেশ।
যদিও প্রথম ম্যাচেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে পিটার বাটলারের দল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি ৯ শিরোপা জেতা চীনের বিপক্ষে লড়ছে বাংলাদেশ।
সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে অবশ্য ৪৪ মিনিট পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে পারে বাংলাদেশ। দুরপাল্লার শটে গোল করলেন চীনের মিডফিল্ডার ওয়াং সুয়াং।
বক্সের বাইরে থেকে বাতাসে ভাসানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। পরের গোল আসে ৭ মিনিট যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই।
৪৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চীনের ঝ্যাং রুইয়ের নিচু শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে জালে জড়ায়। ৩ মিনিটের মাঝে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় চীন।
অবশ্য এর আগ পর্যন্ত অনেকটা লড়াই করছিল বাংলাদেশ। আক্রমণের শুরু যদিও করেছিল চীনই, ম্যাচের ১২ মিনিটে চীনের ওয়াং সুয়াং বাঁ উইং ধরে ঢুকে শট নেন।
গোলকিপার মিলি ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল থেকে পাস পেয়ে আবারো হেড করেছিলেন ওয়াং। দূরের পোস্ট ঘেঁষে বল মাঠের বাইরে। বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
তবে দুই মিনিট পরেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে টাইগ্রেসরাও। ম্যাচের ১৪ মিনিটে বাঁ পায়ে বলে দূরপাল্লার শট নেন ঋতুপর্না। তবে শেষ মুহূর্তে শূন্যে লাফিয়ে তা ঠেকিয়ে দেন চীনের গোলকিপার চেন চেন।
এরপর ১৮ ও ২০ মিনিটে চীন পরপর দুটো সুযোগ বানালেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ান গোলকিপার মিলি। অবশ্য ২৪ মিনিটে আর পারেননি মিলি, গোল পেয়ে যায় চীন।
জিন কুনের ক্রস পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে হেডে জালে বল জড়ান ওয়াং সুয়াং। তবে কিছুক্ষণ পর অফসাইড বলে ভিএআর গোলটি বাতিল করে দেয়। বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
৪১ মিনিটে প্রথম কর্নার পায় বাংলাদেশ। মনিকা চাকমার কর্নার কিক থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু শামসুন্নাহার জুনিয়র শট নিতে পারেননি। এরপর আর প্রথমার্ধে কোনো সুযোগও আসেনি।
প্রথমার্ধে অবশ্য প্রত্যাশিতভাবে দাপট ছিল চীনেরই, ৬৩.৩ শতাংশ বল দখলে রাখে তারা। আর বাংলাদেশ বল দখলে রাখে ৩৬.৭ শতাংশ।
আর এই সময়ে মোট ১৩টি শট নিয়েছে চীন। যেখানে ৭টি শট ছিল পোস্টে। বিপরীতে ৩টি শট নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। যার ২টি শট রাখতে পারে লক্ষ্যে।



