পিটার বাটলার অবাক করা সিদ্ধান্ত নেন প্রায় হরহামেশাই। তার এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হলেও বেশিভাগ ক্ষেত্রেই তা সফল প্রমাণিত হয়। ব্যতিক্রম হয়নি গতকাল চীনের বিপক্ষেও।
এশিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে সাহসী এক চাল দেন বাটলার। চিরচেনা ধারাটা ভেঙে গোলবারের নিচে থেকে রুপনা চাকমাকে সরিয়ে ঠাঁয় দেন ময়মনসিংহের মেয়ে মিলিকে।
একাদশ ঘোষণার পর যা সৃষ্টি করে বিস্ময়ের। প্রশ্ন তুলে কেন রুপনাকে সরিয়ে সুযোগ পেলেন মিলি? তাও নারী এশিয়ান কাপের সর্বোচ্চ শিরোপাধারী দল চীনের বিপক্ষে।
তাছাড়া দলের সেরা গোলকিপার রুপনা। সদ্য শেষ হওয়া লিগে এক ম্যাচেও গোল হজম করেননি, রেখেছেন ক্লিন শিট। তবুও একাদশে না থাকলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
প্রশ্নের উত্তর অবশ্য ম্যাচেই অনেকটা দিয়ে দেন মিলি আক্তার। চীনের সামনেই দৃঢ়তা দেখান চীনের বিখ্যাত প্রাচীরের মতোই। ম্যাচে ২-০ গোলে হেরেছে বটে, কিন্তু মন জয় করে নেন মিলি।
১৯ বছর বয়সী এই গোলকিপার প্রশংসা আদায় করে নেন প্রতিপক্ষেরও। ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া ম্যাচে ৯৫ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের ১১টি অনটার্গেট শটের ৮টি শটই ঠেকান তিনি।
মাঠে মিলি জবাব দেয়ার পর ম্যাচ শেষে উত্তর দেন কোচ পিটার বাটলারও। জানান, বাড়তি উচ্চতার কারণেই সুযোগ মেলে মিলির, আর রুপনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় এই উচ্চতাই।
চীনের ফুটবলাররা এমনিতে উচ্চতায় এগিয়ে। বাংলাদেশকে কাবু করতে এরিয়াল ফুটবলই বেছে নেবে তারা। তাই ৫ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার রুপনাকে ছাড়াই একাদশ সাজাতে বাধ্য হন দাবি কপ্রে বাটলার বলেন, ‘রুপনা সত্যিই খুব ভালো খেলে, অসাধারণ। কিন্তু ওর উচ্চতা কিছুটা কম। এখন আমি তো আর ওকে কোনো দ্রুত বৃদ্ধির কৃত্রিম উপায় দিতে পারি না বা কিছু খাইয়ে ছয় ইঞ্চি লম্বা করে দেয়ার আশাও করতে পারি না।’
তিনি বলেন, ‘দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি সব সময় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় রেখেছি। দলে খেলার কোনো জন্মগত অধিকার রুপনার নেই; এমনকি মিলি বা স্বর্ণারও নেই। দলের প্রয়োজনই আগে।’
শুরুতেই মুহুর্মুহু আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় চীন। পাল্টা জবাব দিতে খুব বেশি দেরি করেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে শেষ পর্যন্ত হেরে গেলে সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।
হেরেও তাই দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি কোচ পিটার বাটলার। বলেন, ‘মেয়েরা দেশের সম্মান ও জার্সির মর্যাদা রক্ষা করেছে। এটি প্রমাণ করে আমরা কতদূর এগিয়েছি। কিছু নেতিবাচক মানুষ হয়ত বলবে আমরা হেরেছি, গোলসংখ্যা এমন হতে পারতো বা তেমন হতে পারতো। কিন্তু আমি মেয়েদের অবদানে খুশি। তারা নিজেদের গর্বিত করার মতো পারফর্ম করেছে।’



