নাহিদ নেই, তাসকিনের কাঁধে পেস আক্রমণের নেতৃত্ব

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজটি কঠিন হবে বলেই মানছেন তাসকিন। তবে কঠিন চ্যালেঞ্জকে ভয় না পেয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে চান তিনি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
তাসকিন আহমেদ
তাসকিন আহমেদ |ফাইল ছবি

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে নতুন এক চ্যালেঞ্জের সামনে বাংলাদেশ। নাহিদ রানা ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়ায় পেস আক্রমণের মূল দায়িত্ব এখন তাসকিন আহমেদের ওপর। ১৯ টেস্টে ৫৫ উইকেট নেয়া এই পেসারই দলের পেসারদের মাঝে সবচেয়ে বেশি টেস্ট উইকেটের মালিক।

অস্ট্রেলিয়ায় এবার চতুর্থবার সফর করছেন তাসকিন। এর আগে ২০১২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, ২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ায় খেলেছেন তিনি। তবে এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে। দ্বিতীয় টেস্ট ২২ আগস্ট ম্যাকেইয়ে।

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজটি কঠিন হবে বলেই মানছেন তাসকিন। তবে কঠিন চ্যালেঞ্জকে ভয় না পেয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে চান তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগকে দলের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবেও দেখছেন এই পেসার।

তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে এখানে আসতে পেরে আমরা সত্যিই সম্মানিত। কোনো সন্দেহ নেই, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। তাদের মাটিতে টেস্ট খেলা আমাদের ও দলের সব খেলোয়াড়ের জন্য গর্বের। যদিও সিরিজটি আমাদের জন্য সহজ হবে না। তবে আমরা ভালো করতে চাই।’

এর আগে ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলেছেন তাসকিন। তবে এবারই প্রথম টেস্ট খেলবেন তিনি। যদিও সিরিজ শুরুর আগে প্রস্তুতিটা ভালো হয়নি।

তবে প্রস্তুতি ম্যাচে অবশ্য ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। তবে সেই হারকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না তাসকিন। তার ভাষায়, আমরা এখনো কন্ডিশন ও পিচের সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। ম্যাচ হারলেও ভালো প্রস্তুতি ছিল। মূল ম্যাচে ভালো করার আশা করছি।

নাহিদ রানার অনুপস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন তাসকিন। সতীর্থের অভাব অনুভব করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে খুব মিস করব, বিশেষ করে নাহিদ রানাকে। সে বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটে বড় হুমকি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে চোট পেয়েছে।’

তবে নাহিদ না থাকাকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন না বাংলাদেশের এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ হিসেবেই দেখছেন সিরিজটিকে। গত জুনে বাংলাদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ।

সেই সাফল্য আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও টেস্টে সেটি কতটা কাজে আসবে, সে বিষয়ে সতর্ক তাসকিন। তিনি বলেন, ‘সত্যিই দারুণ একটি সিরিজ ছিল। মিরপুরের উইকেট বরাবরই স্পিন-সহায়ক ও ধীরগতির। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচের কন্ডিশন ছিল স্পোর্টিং। আমরা সবাই ভালো খেলেছি সিরিজটিতে। তবে ঘরের মাঠ ও বিদেশের মাঠের মাঝে বড় পার্থক্য আছে।’

তাই অতীতের সাফল্য নয়, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে নতুন করে শুরু করতেই প্রস্তুত তাসকিনরা। আর সেই লড়াইয়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের বড় ভরসা হয়ে থাকবেন তাসকিন আহমেদ।

তাই ওয়ানডের সাফল্য পেছনে রেখে এবার সম্পূর্ণ নতুন চ্যালেঞ্জের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। আর সেই চ্যালেঞ্জে দলের পেস আক্রমণের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব তাসকিনের।