আগের তিন ম্যাচে প্রথম ওভার করার সুযোগই পাননি হাসান মাহমুদ। এবার সুযোগ পেয়েই দেখালেন নিজের সামর্থ্য। প্রথম দুই বলেই ২ উইকেট! এরপর করেন আরো ২ শিকার। অন্য প্রান্তে কাউন্টিতে অভিষেক হওয়া খালেদ আহমেদও কম যাননি। তার শিকার ৩ উইকেট।
কেন্টের জার্সিতে বাংলাদেশের দুই পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ডার্বিশায়ার একসময় ৪ উইকেটে ৪৬ রানে পরিণত হয়। যদিও সেখান থেকে মার্টিন আন্ডারসনের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৩০০ রানে পৌঁছে যায় তারা। সেঞ্চুরি করেন আন্ডারসন।
ডার্বির কাউন্টি গ্রাউন্ডে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে ডার্বিশায়ার। প্রথম ওভারেই হাসানের আগুন ঝরানো বোলিং। অফ স্টাম্প ঘেঁষা বাড়তি লাফানো বলে স্লিপে জ্যাক ক্রলির হাতে ধরা পড়েন হ্যারি কেইম। পরের বলেই তীক্ষ্ণভাবে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ ম্যাথু মন্টেগোমারি।
দিনের শুরুতেই হাসানের দুই বলে ২ উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে মুহাম্মেদ নাইম ও ওয়েন ম্যাডসেন ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু খুব বেশি দূর যেতে পারেননি তারা। প্রথম পরিবর্তন বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে নিজের তৃতীয় ওভারেই প্রথম কাউন্টি উইকেট পান খালেদ। ফেরান নাইমকে (১২)।
এরপর খালেদের শিকার হন ডার্বিশায়ারের অধিনায়ক ম্যাডসেনও। নিচু হয়ে আসা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন ২৯ রানে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাড়ে ১৭ হাজার রান করা অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে অভিষেকেই নিজের সামর্থ্যের জানান দেন বাংলাদেশের এই পেসার।
৪ উইকেট হারিয়ে লাঞ্চে যায় ডার্বিশায়ার। এরপর অ্যান্ডারসন ও লুইস রিসের ৯১ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি দেয় তাদের। ৩২ রানে রিসকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন একানশ সিং। এরপর আবারো হাসানের আঘাত। এবার তার শিকার ব্রুক গেস্ট।
ডার্বিশায়ারের রান তখন ৭ উইকেটে ১৭২। ২০০ রানের আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় থাকা দলটিকে এরপর একাই টেনে তোলেন অ্যান্ডারসন। অষ্টম উইকেটে ব্রেট র্যান্ডালের সাথে গড়েন ৮৪ রানের জুটি। র্যান্ডাল ২৯ রানে ফিরলেও অ্যান্ডারসন ছিলেন অবিচল।
শেষ দুই জুটিতে আরো ৪৪ রান যোগ করে ডার্বিশায়ারকে ৩০০ রানে নিয়ে যান তিনি। ১৯০ বলে ১৫টি চারে ১২৯ রানে অপরাজিত থাকেন অ্যান্ডারসন। অন্যদিকে ইনিংসের ইতি টানার কাজটাও করেন বাংলাদেশের দুই পেসার।
দশ নম্বরে নামা জ্যাক মর্লিকে স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড করেন খালেদ। আর শেষ ব্যাটসম্যান শোয়েব বাশিরকে এলবিডব্লিউ করে ডার্বিশায়ারের ইনিংস গুটিয়ে দেন হাসান। মাত্র ৩০ রান দিয়ে ৪ উইকেট হাসানের। খালেদের তিন উইকেট এসেছে ৭৩ রানে।
কাউন্টিতে প্রথমবার খেলতে নেমেই যেন থামছেন না হাসান। আগের ম্যাচে উস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে চারটিসহ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। এবারো প্রথম দিনেই চার শিকার। চার ম্যাচে তার উইকেট এখন ২৩টি। আর অভিষেকে নিজের জানান দিয়েছেন খালেদ।
অবশ্য রান তাড়ায় ভালো নেই কেন্টও। ডার্বিশায়ারকে ৩০০ রানে থামানোর পর দিন শেষে কেন্টের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১১ রান।



