অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ এমন মুহূর্ত আগে কখনো দেখেনি। ডারউইনের আকাশে যেন লেখা হলো এক নয়া কীর্তি। আর সেই কীর্তির নায়ক হাসান মাহমুদ। তার আগুনে পুড়েছে অজিরা।
ডারউইনে প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই তছনছ করে দেন হাসান মাহমুদ। দুর্দান্ত পেস, নিখুঁত লাইন-লেংথ আর আগ্রাসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ৬ উইকেট তুলে নেন তিনি একাই।
তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন অন্য দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। তিনে মিলে ধসিয়ে দিয়েছেন অজিদের ইনিংস। ২০০ ছোয়ার আগেই থামিয়ে দেয়া হয়েছে তাদের যাত্রা। ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে গেছে অজিরা।
শুরুটা হয়েছিল একেবারে নতুন বল হাতে। অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটি যখন ধীরে ধীরে জমে উঠছিল, তখনই আঘাত হানেন হাসান। ৩৭ বলে ২৩ রান করা জেইক ওয়েদারল্ডকে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ভাঙেন ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
পরের ওভারেই আরো বড় ধাক্কা—ট্রাভিস হেডকে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দেন তিনি। হেড আউট হন ৩৯ বলে ২২ করে। এরপরও থামেনি হাসানের তাণ্ডব। একের পর এক উইকেট তুলে নেন হাসান।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে, তাদের বিপক্ষে হাসানের এই ছয় উইকেট শুধু একটি দারুণ বোলিং ফিগার নয়; বাংলাদেশের ক্রিকেটের দারুণ এক রেকর্ডও। এর আগে কখনো অজিদের বিপক্ষে ৫ উইকেট পায়নি কোনো টাইগার পেসার।
অবশ্য সেই সুযোগও খুব একটা আসেনি। বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাঠে টেস্ট খেলতে নেমেছে ২৩ বছর পর! তবে প্রথম দিনেই টাইগার পেসারদের এমন দাপট, এবারের গল্পটা অন্যরকম হতে পারে।
হাসানের জোড়া আঘাতের পর ১৯তম ওভারে এসে উপকেট এনে দেন ইবাদত হোসেন। খোঁচা মেরে দ্বিতীয় স্লিপে শান্তকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মার্নাস লাবুশানে। ২০ বলে ১ রান আসে তার ব্যাটে। এরপর উইকেটে নাম লেখান তাসকিন আহমেদ।
২২ তম ওভারের শেষ বলে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেন ক্যামেরন গ্রিন। ১৩ রানে ফিরেন তিনি। ২৯ রানের ভেতর ৪ উইকেট হারায় অজিরা। ৭৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় তারা।
বিরতির পর থেকে দারুণ ব্যাট করতে থাকেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৮৫ বলে ৫৫ রান যোগ করেন দু’জনে। তবে জুটি আরো বড় হওয়ার আগেই তা ভাঙেন ইবাদত, ৪৩ বলে ১৯ করে বোল্ড হন অ্যালেক্স ক্যারি।
পরের উইকেটগুলো আসে দ্রুতই। ৩৮.৩ ওভারে ১৫২ রানের মাথায় ওয়েবস্টার ফিরেন (১২) তাসকিনের শিকার হয়ে। পরের চার উইকেটই হাসানের। প্রথমে ফেরান প্যাট কামিন্স (৯) ও মিচেল স্টার্ককে (১)।
তবে ২ রানে জীবন পাওয়া স্মিথ ততোক্ষণে ভয়ের কারণ হয়ে ওঠেন। ফিফটি তুলে নেন তিনি। তবে তাকেও থামান হাসান। ৫০.৫ ওভারে ক্যাচ তুলে দিয়ে স্মিথ ফেরেন ১০৯ বলে ৭১ করে। এরপর নাথান লায়নকেও (৭) আউট করেন তিনি।
তাতেই দুইশ’র আগেই গুটিয়ে যায় অজিরা। বোলাররা তাদের কাজটা ভালোই করে দিয়েছে। এবার পালা ব্যাটারদের।


