যেভাবে শুরু করেছিল পাকিস্তান, শেষটা সেভাবে করে করতে পারেনি। ৪২ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫২ রান করা দলটা পরের ৫.৩ ওভারে ২২ রান তুলতেই হারায় শেষ ৫ উইকেট। রিশাদের ঘূর্ণিতে ১৫ বল বাকি থাকতেই গুটিয়ে গেছে ম্যান ইন গ্রিনরা, তারপরও ২৭৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ পাকিস্তানের। সিরিজ নিশ্চিত করতে তাই বাংলাদেশকে করতে হবে ২৭৫ রান।
আজ (শুক্রবার) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুদ্রার উল্টো রূপ দেখে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে যেখানে ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান, সেখানে আজ বড় সংগ্রহের পথে হাঁটে দলটা।
মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। আগের ম্যাচে যেখানে ১১৪ রানেই গুটিয়ে যাওয়া পাকিস্তান উদ্বোধনী জুটিতেই তোলে ১০৩!
গলার কাঁটা হয়ে উঠেছিলেন মাআজ সাদাকাত। টাইগার বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে ৩১ বলে পেয়ে যান ফিফটি। তার রানের সাথে বাড়তে থাকে পাকিস্তানের রানও।
পাওয়ার প্লে কাটে উইকেট শূন্য, বিনা উইকেটে ৮৫ রান তোলে পাকিস্তান। প্রথম উইকেটের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ১৩ ওভার পর্যন্ত। ওভারের শেষ বলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।
উপলক্ষ এনে দেন অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা সাদাকাত ৬ চার ৫ ছক্কায় ৪৬ বলে ৭৫ করে আউট হন। ততক্ষণে দলের রান তিন অঙ্ক ছুঁয়েছে (১০৩)।
এরপর দ্রুত আরো দুই উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ১৭.৪ ওভারে সাহিবজাদা ফারহানকে (৪৬ বলে ৩১) থামান তাসকিন। আর ২২ বলে মাত্র ৬ রান নিয়ে আউট হন শামিল হাসান।
১৯.২ ওভারে পাকিস্তান ৩য় উইকেট হারানোর পর মনে হচ্ছিলো হয়তো এবার তাদের চেপে ধরবে বাংলাদেশ, তখন রিজওয়ান ও সালমান আগা মিলে গড়েন শতরানের জুটি।
১১৫ বল খেলে দুজনে তুলেন ১০৯ রান। জুটিটি ভাঙে অদ্ভুত রান আউটে। ইনিংসের ৩৯তম ওভারের চতুর্থ বলে রিজওয়ানের শট বোলার মিরাজ সেটি পা দিয়ে আটকান।
এ সময় অপর প্রান্তে থাকা সালমান দাগের বাইরে ছিলেন। এমতাবস্থায় বলটিও তার পায়ের কাছে চলে আসে। যা সালমান সেটি মিরাজের হাতে দেয়ার চেষ্টা করেন।
তবে সালমান বল ধরার আগেই মিরাজ বল নিয়ে সেটি স্টাম্পে মারেন। সালমান দাগের বাইরে থাকায় থার্ড আম্পায়ার দেন আউটের সিদ্ধান্ত। ৬২ বলে ৬৪ রানে শেষ হয় তার ইনিংস।
সালমান ফেরার পর ছন্দ হারান রিজওয়ান। এক বল পর মিরাজের বলে রিশাদকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৫৯ বলে ৪৪ রান করে। ৩৯ ওভারে ২৩১ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
এরপর আর কেউ তেমন কিছু করতে পারেননি। রিশাদ একাই তুলে নেন ৩ উইকেট। হোসাইন তালাত (৯), শাহিন আফ্রিদি (৩) ও ওয়াসিম জুনিয়র (১) শিকার তার।
১৪ রান করা ফাহিম আশরাফকে ফেরান মোস্তাফিজ ও ৭ বলে ১১ করে রান আউট হন আব্দুল সামাদ। মাত্র ৪৩ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
রিশাদ ৩, মিরাজ ২ ও তাসকিন আহমেদ, মোসস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা নেন ১টি করে উইকেট।



