বৃষ্টিতে ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ : লিটন

‘শরিফুল খুব ভালো বোলিং করেছে। তার দারুণ বোলিংয়ে আমরা নিউজিল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পারিনি। আসলে ব্যাটিং এবং বোলিং ভালো হয়নি।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
লিটন দাস
লিটন দাস |সংগৃহীত

তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে বৃষ্টি আইনে ৬ উইকেটে হারে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই হারে কিউইদের সাথে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে টাইগাররা। ম্যাচ হারের জন্য, বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিকে দায়ী করলেন টাইগার অধিনায়ক লিটন দাস। দীর্ঘ সময়ে বৃষ্টিতে বিরতি হওয়ায় বাংলাদেশ মোমেন্টাম হারায় বলে মনে করেন লিটন।

চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ৬ উইকেটে জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে পণ্ড হয়ে যায়। সিরিজ জয়ের জন্য তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে হার এড়ানোই মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের জন্য।

তবে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৩ রান তুলে টাইগাররা।

সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলের পর বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকে ব্যাট-বলের লড়াই। ফলে ম্যাচটির দৈর্ঘ্য কমে ১৫ ওভারে নির্ধারিত হয়। বৃষ্টিতে বন্ধ হওয়ার আগে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৫০ রান।

বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে লিটনকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন তাওহিদ হৃদয় ও শামীম হোসেন। কিন্তু ব্যাটিং ধসে ১৮ বলে ১৬ রানে শেষ ৬ উইকেট হারায় টাইগাররা। এতে ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। তাই নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ ছুঁড়ে দিতে পারেনি টাইগাররা। ফলে ১০৩ রানের টার্গেট ২০ বল বাকি থাকতে স্পর্শ করে সিরিজ হার এড়ায় নিউজিল্যান্ড।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন বলেন, ‘আমি আর হৃদয় যখন জুটি গড়ার পথে ছিলাম, তখনই বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। এ সময় বড় জুটির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে বিরতি হওয়ায় আমাদের মোমেন্টাম নষ্ট হয়ে যায়। আসলে দিনটা আমাদের ছিল না।’

তিনি আরো বলেন, ‘অবশ্যই ভালো উইকেটে ১০০ রান যথেষ্ট নয়। আমার মনে হয় ১৬০ রানের কাছাকাছি যেকোনো স্কোর ভালো হতো। যদিও প্রথমে ব্যাট করে ১৫০ রান করাটা অবশ্যই কঠিন। টসের সময় আমি বলেছিলাম আবহাওয়া বড় ফ্যাক্টর হবে। আমার মনে হয় টসটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

১০২ রানের পুঁজি নিয়েও বল হাতে দুর্দান্ত শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ২ উইকেট তুলে নেন টাইগার পেসার শরিফুল ইসলাম। পরের ওভারে আবারো নিউজিল্যান্ড শিবিরে আঘাত হানেন তিনি। এতে ২৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই বিপদে পড়ে নিউজিল্যান্ড। তবে পঞ্চম উইকেটে বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফটের ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয় বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।

শরিফুলের বোলিং পারফরমেন্সের প্রশংসা করেছেন লিটন। তিনি বলেন, ‘শরিফুল খুব ভালো বোলিং করেছে। তার দারুণ বোলিংয়ে আমরা নিউজিল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পারিনি। আসলে ব্যাটিং এবং বোলিং ভালো হয়নি।’

জয় দিয়ে বাংলাদেশ সফর শেষ করতে পারায় খুশি নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক নিক কেলি। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা উপভোগ্য সিরিজ ছিল। জয় দিয়ে সিরিজ শেষ করতে পেরেছি। আগের ম্যাচে আমরা পরিকল্পনা ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারিনি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, আজ দল অবিশ্বাস্য খেলেছি। আমার মনে হয়, ডেথ বোলিংই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’

বাংলাদেশ পেসার শরিফুলের প্রশংসাও করেছেন কেলি, ‘শুরুতে খুবই ভালো বোলিং করেছে শরিফুল। পুরো সিরিজেই ভালো পারফরমেন্স করেছে সে।’ বাসস