হার্ডি-নাহিদ রানা ঝলক, পিএসএল চ্যাম্পিয়ন পেশোয়ার

নাহিদ রানা আর অ্যারন হার্ডির দারুণ বোলিংয়ে আগে ব্যাট করে ১৮ ওভারে ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায় হায়দরাবাদ। জবাবে ১৫. ২ ওভারে ৫ উইকেটে হাতে রেখে জিতে যায় পেশোয়ার।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ক্রিকেটারদের উল্লাস
ক্রিকেটারদের উল্লাস |নয়া দিগন্ত

নয়া চ্যাম্পিয়ন নয়, হায়দরাবাদকে উড়িয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে পেশোয়ার জালমি। নয় বছর পর পিএসএল চ্যাম্পিয়ন হলো দলটি। এই জয়ে বড় অবদান নাহিদ রানার।

নাহিদ রানা আর অ্যারন হার্ডির দারুণ বোলিংয়ে আগে ব্যাট করে ১৮ ওভারে ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায় হায়দরাবাদ। জবাবে ১৫. ২ ওভারে ৫ উইকেটে হাতে রেখে জিতে যায় পেশোয়ার।

শুধুমাত্র ফাইনালের জন্য নাহিদ রানাকে উড়িয়ে আনে পেশোয়ার জালমি। তাদের সিদ্ধান্ত যে ভুল নয়, মাঠেই তার জানান দিলেন এই বাংলাদেশী। দিয়েছেন আস্থার প্রতিদান।

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার পিএসএলের ফাইনালে আগুনঝরা বোলিং করেন রানা। ৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ২২ রান খরচ করে ২ উইকেট তুলে নেন তিনি।

প্রথম ওভারে অবশ্য কিছুটা খরুচে ছিলেন নাহিদ রানা। দেন ১৩ রান। তবে ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেননি। পরের ওভারের প্রথম বলেই গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ফেরান। ওই ওভারে দেন মাত্র ৫ রান।

এরপর ১৪তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে কোনো রানই দেননি নাহিদ। উল্টো পঞ্চম বলে ১৪৮ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগের নিখুঁত ইয়র্কারে বোল্ড করে দেন হুনাইন শাহকে। গড়েন দারুণ এক কীর্তও।

পিএসএল ফাইনালে মেডেন ওভার করা মাত্র তৃতীয় বোলার নাহিদ। তার আগে ২০২১ সালে ইমরান খান ও ২০২৪ সালে এই কীর্তি গড়েন খুশদিল শাহ। আর শেষ ওভারে রানা দেন মাত্র ৪ রান।

অন্যদিকে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন হার্ডি। তাতে ১৮ ওভারেই শেষ হয় হায়দরাবাদের ইনিংস। দলটির হয়ে ৫০ বলে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন সাইম আইয়ুব। ২০ রান করেন লাবুশানে।

পিএসএলের ফাইনালে এর চেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার ঘটনা আছে মাত্র একটি। ২০১৭ সালে জালমির বিপক্ষে ৯০ রানে অলআউট হয়েছিল কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স।

রান তাড়া করতে নেমে বিপদে পড়ে যায় পেশোয়ারও। মাত্র ৪০ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট। প্রথম ওভারে বিদায় নেন মোহাম্মাদ হারিস (৬) ও অধিনায়ক বাবর আজম (০)।

পাঁচ ওভারের মাঝে ফিরেন দারুণ ছন্দে থাকা কুশল মেন্ডিস (৯) ও মাইকেল ব্রেসওয়েলও (৪)। এমতাবস্থায় হাল ধরেন বল হাতে চমক দেখানো সেই হার্ডি। সাথে পান সামাদকে।

আব্দুল সামাদের সাথে ৮৫ রানের দারুণ জুটিতে দলকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে যান তিনি। জয় থেকে ৫ রান দূরে থাকতে সামাদ (৩৪ বলে ৪৮) ফিরলেও, কাজ শেষ করে ফেরেন হার্ডি।

বল হাতে ৪ উইকেট নেয়া হার্ডি ব্যাট হাতে খেলেন ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংস। তাতেই জয় পায় পেশোয়ার। হায়দরাবাদের হয়ে মোহাম্মদ আলী নেন ৩ উইকেট।

প্রথমবার পিএসএলে খেলতে গিয়েই শিরোপার স্বাদ পেলেন নাহিদ। দলের শিরোপা জয়ের বড় কারিগর তিনিও। ৫ ম্যাচে ১০.৮৮ গড়ে নিয়েছেন ৯ উইকেট।

ওভারপ্রতি নাহিদের খরচ মাত্র ৫.৪৪, পিএসএলের এই আসরে যা সবচেয়ে মিতব্যয়ী।