বিপিএল নিলাম

১ কোটি ১০ লাখে চট্টগ্রামে নাঈম, ৭৫ লাখে রংপুরে লিটন

এ ক্যাটাগরি শেষে শুরু হয় বি ক্যাটাগরির নিলাম। যেখানে ৩৫ লাখ ভিত্তিমূল্য। এই ক্যাটাগরি থেকে প্রথমেই নাম আসে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। তবে প্রথম ডাকে তিনি অবিক্রিত থেকেছেন। অবিক্রিত থাকেন মুশফিকুর রহিমও।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নাইম শেখ ও লিটন দাস
নাইম শেখ ও লিটন দাস |সংগৃহীত

মনে হচ্ছিলো লিটন দাসকে নিয়ে বেশ কাড়াকাড়ি হবে, তবে বাংলাদেশ অধিনায়ককে বলা যায় বেশ সহজেই দলে টেনেছে রংপুর রাইডার্স। তবে চমক দেখিয়েছেন নাঈম শেখ, ১ কোটি ১০ লাখ টাকা উঠেছে তার মূল্য।

দেশী ক্রিকেটারদের মাঝে এ ক্যাটারিতে ছিলেন নাঈম শেখ ও লিটন দাস। যেখানে তাদের ভিত্তিমূল্য ছিল ৫০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নিলামে প্রথমেই নাম ওঠে নাঈম শেখের। শুরুতেই তার প্রতি আগ্রহ দেখায় সিলেট টাইটান্স। এরপর নোয়াখালী এক্সপ্রেস, রংপুর রাইডার্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালস তাকে দলে ভেড়াতে লড়াইয়ে নামে।

শেষ পর্যন্ত তাকে দলে নিতে পেরেছে সিলেট। তাকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় দলে নিয়েছে চট্টগ্রাম। অন্যদিকে সিলেটের সাথে লড়াই করে মাত্র ৭৫ লাখ টাকাতেই লিটন দাসকে দলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স।

এ ক্যাটাগরি শেষে শুরু হয় বি ক্যাটাগরির নিলাম। যেখানে ৩৫ লাখ ভিত্তিমূল্য। এই ক্যাটাগরি থেকে প্রথমেই নাম আসে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। তবে প্রথম ডাকে তিনি অবিক্রিত থেকেছেন। অবিক্রিত থাকেন মুশফিকুর রহিমও।

বি ক্যাটাগরি থেকে দ্বিতীয় নাম ওঠে শরিফুল ইসলামের। তাকে নিতে আগ্রহ দেখায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। শেষ পর্যন্ত তাকে ৪৪ লাখ টাকায় দলে নিয়েছে তারাই।

এরপর নাম আসে তাওহীদ হৃদয়ের। ৯২ লাখে রংপুর রাইডার্সে নাম লিখিয়েছেন। আর শামীম পাটোয়ারীকে দলে নিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। ৫৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে তাদের।

৩৫ লাখ টাকায় পারভেজ হোসেন ইমনকে দলে নিয়েছে সিলেট টাইটান্স। এরপর তানজিম হাসান সাকিবের নাম ওঠে নিলামে। তাকে নিতে সিলেট ও চট্টগ্রাম লড়াইয়ে নামে। শেষ পর্যন্ত ৬৫ লাখে তাকে দলে নেয় রাজশাহী।

এদিকে মোহাম্মদ সাইফুদ্দীনকে ৬৮ লাখ টাকায় দলে নিয়েছে ঢাকা। এরপর খালেদ আহমেদের নাম ওঠে। তাকে ৪৭ লাখে দলে নেয় সিলেট। আর ৪৪ লাখে ইয়াসির আলী রাব্বিকে দলে নিয়েছে রাজশাহী।

অন্যদিকে ভিত্তিমূল্যতেই দল পেয়েছে জাকের আলী ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তাদের দলে নিতে নোয়াখালী ছাড়া আর কেউ আগ্রহ দেখায়নি। আর সি ক্যাটাগরিতে থাকা আফিফ হোসেনকে সিলেট দলে নিয়েছে ভিত্তিমূল্য ২২ লাখে।

মাহমুদুল হাসান জয়ের বেস প্রাইস ছিল ২২ লাখ। তাকে দলে নিতে লড়াইয়ে নামে সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী। শেষ পর্যন্ত তাকে ৩৭ লাখে তাকে দলে নেয় চট্টগ্রাম। আর ৫২ লাখে ঢাকা দলে নিয়েছে মোহাম্মদ মিঠুনকে। তবে ইবাদত হোসেন অবিক্রিত থাকেন।

নাহিদ রানাকে দলে নিতে আগ্রহ দেখায় রংপুর, রাজশাহী ও নোয়াখালী। শেষ পর্যন্ত এই স্পিড স্টারকে দলে নেয় ৫৬ লাখ টাকায় দলে নেয় রংপুর। আর ভিত্তিমূল্য ২২ লাখ টাকায় আবু হায়দার রনিকে দলে নিয়েছে চট্টগ্রাম।

তবে স্পিনার রাকিবুল হাসনকে নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগে ঢাকা ও রংপুর। শেষ পর্যন্ত ৪২ লাখে তাকে দলে নেয় রংপুর রাইডার্স। তবে বিকল্প হিসেবে তাইজুল ইসলামকে নিয়েছে ঢাকা। ৩০ লাখ টাকায় তাকে দলে নিয়েছে তারা।

২৫ লাখে রিপন মন্ডলকে দলে নিয়েছে রাজশাহী। রাজশাহী দলে নিয়েছে জিসান আলমকেও। ১৮ লাখে তাকে পেয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সমান ১৮ লাখ টাকায় হাসান মুরাদকেও দলে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে আলিস আল ইসলামকে নিয়েছে রংপুর। তাকে নিতে ২৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

হাবিবুর রহমান সোহান আগে থেকেই ছিলেন আলোচনায়। নিলামেও তাকে নিয়ে হলো বেশ দরদাম। তবে শেষ পর্যন্ত ৫০ লাখে নোয়াখালী দলে নিয়েছে হাবিবুর রহমান সোহানকে।

গত আসরে ঢাকা ক্যাপিটালসে খেলেছিলেন সাব্বির রহমান। তাকে ২৮ লাখ টাকায় ধরে রেখেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ভিত্তিমূল্য ১৮ লাখ টাকায় ঢাকা কিনেছে একসময় জাতীয় দলে খেলা তারকা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকেও।

রাইজিং স্টার এশিয়া কাপে চমক দেখানো পেসার আব্দুল গাফফারকে ৪৪ লাখ টাকায় নিয়েছে রাজশাহী। অলরাউন্ডার মেহরব হোসেনও পেয়েছেন দল। তাকে নিতে ৩৯ লাখ টাকা খরচ করেছে রাজশাহী।

এদিকে শুরুতে অবিক্রিত থাকলেও পরে ২২ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্যে পেসার ইবাদত হোসেনকে দলে নিয়েছে সিলেট টাইটানস। দ্বিতীয় ডাকে নোয়াখালী নিয়েছে রেজাউর রহমানকে। প্রথম ডাকে অবিক্রিত থাকা স্পিনার নাঈম হাসানকে দলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স।

তাদেরকেও ভিত্তিমূল্য ১৮ লাখ টাকায় পেয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। সমমূল্যে তোফায়েল আহমেদ ও ইরফান শুক্কুরকে দলে নিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। কামরুল ইসলাম রাব্বিকে দলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স। আর আরাফাত সানিকে দলে নেয় চট্টগ্রাম।

আরিফুল ইসলামকে দলে নিয়েছে সিলেট। তাকে নিতে ২৬ লাখ খরচ করতে হয়েছে। শাহাদাত হোসেন দীপু ১৮ লাখ টাকায় গেছেন নোয়াখালীতে। তবে পেসার শেখ পারভেজ জীবন আছেন অবিক্রিত। দল পাননি মুমিনুল হক, সাদমান ইসলামও।

অবশেষে দল পেলেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ফ্রাঞ্চাইজিদের দাবির মুখে ফের তাদের নাম নিলামে উঠালে অভিজ্ঞ এই দুই সিনিয়র ক্রিকেটারকে দলে ভেড়ায় রংপুর ও রাজশাহী।

তবে প্রথম ডাকে দল পাননি অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ভিত্তিমূল্যেও তাদের দলে ভেড়াতে অনীহা ছিল ফ্রাঞ্চাইজিদের। তবে দেশী ক্রিকেটারদের নিলামের শেষ দিকে এসে ফের তাদের নাম উঠানো হয়।

এবার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে রংপুর রাইডার্স ও মুশফিকুর রহিমকে দলে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ভিত্তিমূল্যেই তাদের নেয় তারা।