অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখে তৃতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ

দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন |সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ার পথেই আছে বাংলাদেশ। ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে চালকের আসনে সফরকারীরাই। প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বড় লিড নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ৪ উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। দিন শেষে ১৬১ রানে থেমেছে স্বাগতিকরা, এখনো পিছিয়ে ৬৭ রানে।

শনিবার তৃতীয় দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনেই আরো ৬৬ রান যোগ করে হারায় ২ উইকেট। দু’টিই নেন জশ হ্যাজেলউড। তবে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়েও বাংলাদেশের লিড থামানো যায়নি।

লোয়ার অর্ডারে দাঁড়িয়ে দলের সংগ্রহ বড় করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। সাথে তাসকিন আহমেদের কার্যকর অবদান বাংলাদেশকে নিয়ে যায় ৪২৬ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেয়ার পথে দুর্দান্ত ছিলেন হ্যাজেলউড। ৬ উইকেট নিয়ে তিনি নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন। তবে তার এই কীর্তিও দিন শেষে অস্ট্রেলিয়াকে স্বস্তি দিতে পারেনি।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ ফিরিয়ে দেন দুই ওপেনারকে।

জ্যাক ওয়েদারাল্ড ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই, ৩৫ বলে ১৭ রান করেন ট্রাভিস হেড।

এরপর মারনাস লাবুশেনকে ৩১ রানে থামান তাইজুল ইসলাম। স্টিভেন স্মিথ ৮৮ বলে ৪৪ রান করে মেহেদী মিরাজের শিকার হন। ১২২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে যায় স্বাগতিকরা। শেষ বিকেলে অবশ্য প্রতিরোধ গড়েছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি।

গ্রিন ৪৩ ও ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন। তাদের ৩৯ রানের জুটিতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে স্কোরবোর্ড বলছে, এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা। তিন দিন শেষে তাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতেই।

চতুর্থ দিনের শুরুতে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ছোট লক্ষ্য দিতে পারলে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়ার দরজা খুলে যাবে টাইগারদের সামনে। তবে সেই ইতিহাসের আগে এখনো পেরোতে হবে অনেক বাধা।

শনিবার তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে গুটিয়ে যাওয়ার আগে দারুণ ব্যাট করে বাংলাদেশ। ১৩৮ ওভার ব্যাট করে ৪২৬ রানে থেমেছে টাইগাররা। যেখানে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯৮ রানে।

দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ প্রথম সেশনে আরো ৬৬ রান যোগ করে। এই সময় হারাতে হয় দুটি উইকেট। দুই উইকেটই নেন পেসার জশ হ্যাজেলউড। তবে তাতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামেনি।

লোয়ার অর্ডারে দাঁড়িয়ে দলের লিড আরো বড় করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ধৈর্য আর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ফিফটি। তাসকিন আহমেদের সাথে জুটি গড়ে দলকে পাড় করে দেন ৪০০ রানের গণ্ডি।

তবে মধ্যাহ্নবিরতি থেকে ফিরেই শিকার হন মিরাজ। ১৫২ বলে ৬৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। তার বিদায়ের পর দ্রুতই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হয়ে শেষ উইকেট ছিল ইবাদত হোসেনের, ১৮ বলে ৭ রান করেন তিনি। ৩২ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন তাসকিন। অজিদের হয়ে একাই ৬ উইকেট নেন জশ হ্যাজলউড।

এই লিড বাংলাদেশের জন্য শুধু বড় ব্যবধানই নয়, তৈরি করেছে দুটি ঐতিহাসিক কীর্তিও। টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে ২০০ রানের লিড বাংলাদেশ এর আগে নিয়েছিল তিনবার। তবে প্রতিবারই দেশের মাটিতে।

এবারই প্রথম বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে ২০০ রানের বেশি লিড পেল বাংলাদেশ। এছাড়া র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে প্রথমবার ২০০ রানের লিড নেওয়ার কীর্তিও গড়েছে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস অবশ্য থেমেছিল মাত্র ১৯৮ রানে। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ঝড় তুলেছিলেন হাসান মাহমুদ। একাই নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। এরপর ব্যাট হাতে দলের ভিত শক্ত করেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

দ্বিতীয় দিনে তানজিদ তামিমের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ ও মুশফিকুর রহিমের ৪৯ রান দলকে বড় লিডের পথে এগিয়ে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে টেস্টে তিন অঙ্কে পৌঁছান তামিম, ১০১ রান।