এক্সিলেন্স সেন্টার নির্মাণে কাজ শুরু করছে বিসিবি

পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের এক্সিলেন্স সেন্টার নির্মাণে কাজ শুরু করার অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। প্রকল্প বাস্তবায়নে আড়াই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) |ফাইল ছবি

টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ ক্রিকেটে দীর্ঘদিন একটি আন্তর্জাতিক মানের অ্যাকাডেমি বা এক্সিলেন্স সেন্টারের অভাব ছিল। এবার সেই শূন্যতা পূরণের পথে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বুধবার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি তামিম ইকবাল জানান, পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের এক্সিলেন্স সেন্টার নির্মাণের কাজ শুরু করার অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। খুব শিগগিরই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হবে।

তামিম জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তার ভাষায়, ‘আমরা এমন একটি এক্সিলেন্স সেন্টার চাই, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটি বড় মাইলফলক হবে।’

পূর্বাচলের ক্রিকেট কমপ্লেক্সের নকশা তৈরির দায়িত্বে থাকা অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠান পপুলাসকেই নতুন করে ডিজাইন সংশোধনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আগের নকশায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে আধুনিক চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি এক্সিলেন্স সেন্টার গড়ে তোলা হবে।

তামিম জানান, আগের ডিজাইন তার কল্পিত এক্সিলেন্স সেন্টারের সাথে পুরোপুরি মিলছিল না। তাই নতুনভাবে ডিজাইন তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পপুলাসের বকেয়া নয় লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নতুন ডিজাইন হাতে পাওয়ার পর প্রকল্পের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তিনি আরো জানান, বিসিবির নিজস্ব অর্থায়নেই এক্সিলেন্স সেন্টার নির্মাণ করা হবে এবং পুরো নকশা ও সুযোগ-সুবিধার পরিকল্পনায় তিনি নিজেও সরাসরি যুক্ত থাকবেন।

বিসিবির পরিচালক ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান শানিয়ান তানিম জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আড়াই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। চূড়ান্ত নকশা পাওয়ার পরই নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

একই কমপ্লেক্সে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে জাতীয় ক্রিকেট গ্রাউন্ডের, যা ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্টেডিয়াম নির্মাণে সরকারি অর্থায়নের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন তামিম। এ বিষয়ে সরকারের সাথে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

বিসিবির আশা, এক্সিলেন্স সেন্টার ও নতুন স্টেডিয়াম বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রিকেট অবকাঠামো নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পরিবেশ নিশ্চিত হবে।