চোটে ৪ ক্রিকেটার, আটকে গেছে অস্ট্রেলিয়া সফরের দল ঘোষণা

লিটন, শরিফুল, নাহিদ ও মোস্তাফিজুর ইনজুরিতে থাকায় অস্ট্রেলিয়া সফরের দল ঘোষণায় দেরি হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বামে লিটন দাস ও ডানে নাহিদ রানা
বামে লিটন দাস ও ডানে নাহিদ রানা |নয়া দিগন্ত অনলাইন

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে বড় দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। জাতীয় দলের চার ক্রিকেটার—লিটন দাস, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান চোটে থাকায় সিরিজের দল ঘোষণাও পিছিয়ে গেছে।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আগামী ১ ও ৩ আগস্ট দুই দফায় অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে বাংলাদেশ দল। তবে তার আগে চোটে থাকা ক্রিকেটারদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত হয়েই স্কোয়াড ঘোষণা করতে চায় বিসিবি।

টেস্ট দলের বিবেচনায় রয়েছেন লিটন, শরিফুল ও নাহিদ। অন্যদিকে মোস্তাফিজ টেস্ট দলে না থাকলেও তার চোট নিয়েও নজর রাখছে বোর্ড।

লিটন প্রায় এক মাস ধরে মাংসপেশির চোটে ভুগছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে চোট পাওয়ার পর জিম্বাবুয়ে সফরেও ছিলেন বিশ্রামে। বর্তমানে উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরে রয়েছেন।

এদিকে জিম্বাবুয়ে সফরেই সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত হন নাহিদ রানা, হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান শরিফুল ইসলাম ও হাঁটুর চোটে পড়েন মোস্তাফিজুর রহমান। এত ক্রিকেটার চোটে পড়ায় ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন দাবি করেছেন, বিসিবি এ বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক।

তিনি বলেন, ‘ওয়ার্কলোড আমরা খুব ভালো ম্যানেজ করি। ওয়ার্কলোডের কারণেই জিম্বাবুয়েতে নাহিদ, তাসকিন ও শরিফুলকে টেস্ট ম্যাচে খেলানো হয়নি। চোট খেলারই অংশ। যতই ম্যানেজ করুন, পুরোপুরি এড়ানো যায় না।’

বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরীও মনে করেন, চোটের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, ‘জিম্বাবুয়েতে অনেক ঠান্ডা ছিল। সেটাও একটি কারণ হতে পারে। ঘাসের কন্ডিশনও ভূমিকা রাখতে পারে। একটি চোটের পেছনে একাধিক কারণ থাকে।’

নাহিদ রানার চোট নিয়ে আপাতত খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন নির্বাচকরা। হাবিবুল বাশারের ভাষায়, গরম আবহাওয়া থেকে হঠাৎ ঠান্ডা কন্ডিশনে যাওয়ায় ক্র্যাম্প বা পেশির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া একজন গতিময় পেসারের ক্ষেত্রে চোটের ঝুঁকিও স্বাভাবিক।

অন্যদিকে মুস্তাফিজুর রহমানের চোট নিয়ে টেস্ট সিরিজের জন্য তেমন উদ্বেগ নেই। কারণ অস্ট্রেলিয়া সফরে কোনো সীমিত ওভারের ম্যাচ নেই।

প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘মুস্তাফিজ তো অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নেই। সে শুধু ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলে। দ্য হান্ড্রেডে যাবে কিনা, সেটি মেডিক্যাল বিভাগ সিদ্ধান্ত নেবে।’

লিটনের বিষয়ে দেবাশিস জানান, নতুন স্ক্যান রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে। আর হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আগের স্ক্যানে কোনো সমস্যা ধরা না পড়ায় তাকে জিম্বাবুয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে ব্যথা ফিরে আসায় এখন আরো বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।’

শরিফুল ইসলামকে নিয়ে অবশ্য কিছুটা আশাবাদী বিসিবি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি ইতোমধ্যে পুনর্বাসন শুরু করেছেন। নতুন কোনো জটিলতা না দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ের মাঝেই পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার আশা করছেন দলের চিকিৎসক ও নির্বাচকরা।