বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগে কখনো জিততে পারেনি পাকিস্তান, আরাধ্য জয়ের দেখা মেলেনি এবারো। লড়াই হলেও শেষ পর্যন্ত পেরে উঠেনি ম্যান ইন গ্রিনরা। আবারো ইংলিশ পরীক্ষায় ফেল তারা।
পাকিস্তানকে হারিয়ে সুপার এইটে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিলো ইংল্যান্ড। হ্যারি ব্রুকের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে থ্রি লায়ন্সদের জয় ২ উইকেটে। ১০ চার ও ৪ ছক্কায় ৫১ বলে ১০০ রান করেন ব্রুক।
মঙ্গলবার পাল্লাকেলেত আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৬৪ রান করে পাকিস্তান৷ জবাবে ১৯.১ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে জিতে যায় ইংল্যান্ড। টানা দুই জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল তারা।
রান তাড়ায় অবশ্য ইংলিশদের শুরুতে বেশ ভালোভাবেই চেপে ধরেছিল পাকিস্তান। ৭.১ ওভারে ৫৮ রান করতেই তুলে নিয়েছিল ৪ উইকেট। যার তিনটাই নেন শাহিন আফ্রিদি।
আফ্রিদি পরপর ফেরান ফিল সল্ট, জশ বাটলার ও জ্যাকব বেথেলকে। আর উসমান তারিক ফেরান টম ব্যান্টনকে। তাদের কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। চারজনের সম্মিলিত রান ৯।
৫৮ রানের ৪৫ রানই আসে তিনে নামা হ্যারি ব্রুকের ব্যাটে। শেষ পর্যন্ত একপ্রান্ত আগলে রেখে তিনিই দলকে পৌঁছে দেন জয়ের দুয়ারে। মাত্র ৫০ বলে তুলে নেন সেঞ্চুরি।
যা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। উপরের নামটা ক্রিস গেইলের, ২০১৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। সমান ৫০ বলেও সেঞ্চুরি আছে গেইলের।
এদিকে সেঞ্চুরি করার পরের বলেই (১৭ ওভারের শেষ বল) অবশ্য আউট হয়ে যান ব্রুক। দলের রান তখন ১৫৫। আর ৫ রান যোগ হতেই ফেরেন উইল জ্যাকস (২৩ বলে ২৮)।
একই ওভারে জেমি ওভারটনকে হারালেও শেষ ওভারে ৩ রানের সমীকরণ মেলাতে সমস্যা হয়নি ইংল্যান্ডের। পাকিস্তানের হয়ে আফ্রিদি ৩০ রানে নেন ৪ উইকেট। ২ উইকেট নেন মোহাম্মদ নাওয়াজ।
২ উইকেট নিয়ে নাওয়াজ চতুর্থ পাকিস্তানি হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে শত উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। অন্যদিকে ৪ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক এখন শাহিন আফ্রিদি (১৩৫)।
এর আগে, টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সাইম আইয়ুব (৭) ও সালমান আগাকে (৫) হারায় পাকিস্তান। বাবর আজম চারে নেমে রান পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি, ২৪ বলে করেন ২৫ রান।
তবে পাকিস্তানের ইনিংসের হাল ধরে রাখেন সাহিবজাদা ফারহান। তুলে নেন ফিফটি, ৪৫ বলে ৬৩ রান করেন তিনি। এছাড়া পাঁচে নেমে ফখর জামান ১৬ বলে ২৫ ও ছয়ে নেমে শাদাব খান করেন ১১ বলে ২৩।
তাতেই বলার মতো স্কোর পায় পাকিস্তান। শেষ ৩২ বলে ৪২ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারায় তারা। লিয়াম ডসন ২৪ রানে নেন ৩ উইকেট।
এদিকে এই হারে সেমিফাইনাল স্বপ্ন ধুসর হয়ে গেল পাকিস্তানের। প্রথম ম্যাচেও জিততে পারেনি তারা। নিউজিল্যান্ডের সাথে বৃষ্টিতে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়।



