কাল থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সাফল্যের জন্য মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সতীর্থদের আরো বেশি দায়িত্ববান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। তিনি জানান, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য এই সিরিজে সাফল্য পাওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম ওয়ানডের আগে মিরাজ বলেন, ‘যেহেতু ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে, আমরা ইতোমধ্যেই আমাদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। আমরা অবশ্যই বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে পরিকল্পনা করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আগে ওয়ানডে ফরম্যাটে খুব ভালো দল ছিলাম এবং এই ফরম্যাটে ভালো ফলও করেছি। এই ফরম্যাটে আমাদের একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন ছিল। তখন দলে অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিল। দীর্ঘদিন একসাথে খেলার কারণে প্যাটার্নটা তারা খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন।’
মিরাজ আরো বলেন, ‘কিন্তু তাদের কেউ এখন খেলছে না। এজন্য আমাদের মধ্যে যারা এই দলে আছেন, তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। ওয়ানডেতে প্রতিটি পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে এবং কিভাবে তাদের মোকাবেলা করতে হবে সেটি জানতে হবে।’
সতীর্থদের প্রতি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘প্রত্যক খেলোয়াড়ের জন্য নিজ নিজ ভূমিকা এবং বিভিন্ন পজিশনে কিভাবে খেলতে হবে সেটি বুঝতে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটারদের আরো বেশি দায়িত্ব নিতে হবে এবং আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা করছি। যেহেতু আমরা দীর্ঘদিন পর আবার শুরু করছি, আমরা কিভাবে এগিয়ে যেতে পারি সেটি নিয়ে ভাবছি।’
ওয়ানডেতে অধিনায়কের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ভালো সময় যাচ্ছে না মিরাজের। তার অধীনে ১৩টি ওয়ানডে খেলে মাত্র ৩টিতে জয় ও ৯টিতে হেরেছে বাংলাদেশ। ১টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।
অধিনায়ক হিসেবে ব্যাট-বল হাতেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মিরাজ। ১৩ ইনিংসে ৩২.৫৮ গড় ও ৭২.৪০ স্ট্রাইক রেটে ৩৯১ রান করেন তিনি। বোলিংয়ে ১৩ উইকেট শিকার করেন এই অফ স্পিনার।
তবে মিরাজ মনে করেন গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে পর্যাপ্ত ওয়ানডে খেলেনি। এ কারণে খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সে ছেদ পড়েছে।
মিরাজ বলেন, ‘আমি মোটেও চিন্তিত নই। গত বিশ্বকাপের পর থেকে আমরা কতগুলো সিরিজ খেলেছি? এই ম্যাচগুলোর মাঝে অনেক ব্যবধান ছিল। আমাদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক ম্যাচ জিতবে দল। আমি সবসময় দলের জন্য ম্যাচ জেতার চেষ্টা করব।’
নিজেদের শেষ পাঁচ ওয়ানডে সিরিজের চারটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। গত বছর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও টাইগারদের পারফরমেন্স হতাশাজনক ছিল।
২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য র্যাংকিংয়ের উন্নতিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে পয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত র্যাংকিংয়ে শীর্ষ আট দলের মধ্যে থাকতে হবে।
মিরাজ বলেন, ‘বিশ্বকাপের উইকেট সবসময় ভালো হয়ে থাকে এবং আমরা এখন থেকেই ভালো উইকেটে খেলার অভ্যাস করতে চাই। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে আমাদের অনেক ম্যাচ আছে। পরিকল্পনা হলো ভালো উইকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা। আমরা যদি ভালো উইকেটে বেশি বেশি খেলতে পারি তাহলে আমাদের জন্যই ভালো হবে। একই সাথে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে বিশ্বকাপে আমাদের সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তাই আমরা যে দলগুলোর সাথে খেলব সেসব দলগুলোর বিপক্ষে আমরা ঘরের কন্ডিশনের সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করব।’
অনভিজ্ঞ দল নিয়ে এবারের বাংলাদেশ সফরে এসেছে পাকিস্তান। দলে নতুন মুখ ছয়জন। তারপরও পাকিস্তান দল নিয়ে সতীর্থদের সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মিরাজ।
তিনি বলেন, ‘কোনো দলকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি দলই শক্তিশালী। তাদের তরুণ খেলোয়াড় আছে। পারফর্ম করেই তারা দলে সুযোগ পেয়েছে। যেহেতু আমাদের ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা আছে এবং আমাদের কন্ডিশন ভালোভাবে জানা আছে। তাই আমরা আমাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট। আমি মনে করি, সবাই দায়িত্ব নিয়ে খেলবে এবং অবশ্যই আমরা পাকিস্তানকে সমীহ করছি।’



