ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিন বাংলাদেশ শুরু করেছিল ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয় দিয়ে। একসময় নিজেদের সর্বনিম্ন টেস্ট স্কোরের লজ্জার রেকর্ড নতুন করে লেখার শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ। যদিও সেই লজ্জা এড়ানো গেছে, তবে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় দল।
তবে ম্যাচের লাগাম এখনো হাতছাড়া হয়নি। বল হাতে সেই বিপর্যয় অনেকটাই সামাল দিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচে ফিরিয়েছেন বাংলাদেশকে। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১৬৫ রান।
বাংলাদেশের চেয়ে ১০১ রানে এগিয়ে থাকলেও স্বাগতিকদের হাতে আছে মাত্র দুই উইকেট। ফলে শরিফুলে ভর করে প্রথম দিন শেষে ম্যাচে এখনো টিকে আছে বাংলাদেশ।তবে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেট নিয়েও পুরোপুরি খুশি নন শরিফুল।
ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, অনুভূতি অবশ্যই ভালো, তবে ম্যাচ জিতলেই তিনি বেশি খুশি হবেন। সেই সাথে স্মরণ করেছেন গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ৬ উইকেট নেয়ার কীর্তিকে। সেই ম্যাচে ব্যক্তিগত সাফল্য পেলেও বাংলাদেশ জয় পায়নি।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনুভূতি অবশ্যই ভালো। প্রথমত, ধন্যবাদ জানাই আল্লাহ তাআলাকে। গতবার যেটা পেয়েছিলাম, ওটাও ভালো লেগেছিল। সত্যি আরো ভালো লাগত, যদি ম্যাচটা জিততাম। ৫ উইকেট পেয়েছি বলে আমি এখনই খুব খুশি নই। যদি ম্যাচ জিতি তবে অনেক খুশি হব।’
একই দিনে অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্কও নিয়েছেন ৬ উইকেট। তার কারণেই বাংলাদেশ ৬৪ রানের গুঁড়িয়ে যায়। স্টার্কের পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামান শরিফুল। দুজনই পেয়েছেন ম্যাকাইয়ের বাতাস ও নতুন বলের সুইংয়ের সহায়তা। এই প্রসঙ্গে শরিফুল বলেন, ‘আপনারা খেলা দেখেছেন। নতুন বলে সবসময় সুইং করছিল, প্রায় ২০-২৫ ওভার পর্যন্ত। ওরা সেই সুবিধা কাজে লাগিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে সবসময় ফাস্ট বোলাররা ভালো করে। স্টার্ক অনেক দিন ধরে খেলছেন এবং ভালো করছিলেন। আমি দেখছিলাম কোন লেংথে বল করলে বোলারদের জন্য সুবিধা পাওয়া যায়।’
এদিকে একদিনে ১৮ উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচের ফলের একটা ধারণা পাওয়া গেলেও শরিফুল মনে করছেন, এখনো অনেক কিছু বাকি। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ, এখনো তো খেলা শেষ হয়নি। কেবল প্রথম দিন গেল। ব্যাটিংয়ে আজ আমাদের একটি খারাপ দিন গেছে। তবে তারাও তাদের কন্ডিশনে অনেক সংগ্রাম করছে। দেখা যাক কী হয়, আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারি।’
সতীর্থ ব্যাটারদের সাথে কথা বলার কথাও জানিয়েছেন শরিফুল। তার প্রত্যাশা, ‘আমরা এখনো খেলার মধ্যে আছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা চেষ্টা করব দ্বিতীয় ইনিংসটি যাতে আমাদের পক্ষে থাকে। সবার সাথে কথা হয়েছে, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের সাথে।’
নিজের অনুপ্রেরণার কথাও জানিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। দেশের মোস্তাফিজুর রহমানকে আদর্শ মানলেও সুইংয়ের জন্য স্টার্কের বোলিং তার পছন্দ। স্টার্কের প্রশংসা করে শরিফুল বলেন, ‘ওনার বোলিং আমার ভালো লাগে। দেশে আমার আদর্শ মোস্তাফিজ ভাই, তবে সুইংয়ের জন্য ওনাকেও পছন্দ করি। একই ম্যাচে উনিও ৬ উইকেট পেয়েছেন, আমিও পেয়েছি- এটি খুব ভালো লাগার বিষয়।’



