অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তির খবর দিয়েছেন ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমান। অনুশীলনে লিটন দাসের মুভমেন্ট ভালো থাকায় তার ফিটনেস নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ দল।
ডারউইনে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে আশিকুর বলেন, অনুশীলনে লিটন স্লিপে ক্যাচিং ও কিপিং করেছেন। তার মুভমেন্টও বেশ ভালো ছিল। লিটনের ফিটনেসের পাশাপাশি দলের ফিল্ডিং নিয়েও সন্তুষ্ট আশিকুর।
লিটনকে নিয়ে আশিকুর বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, লিটন স্লিপে ক্যাচিং ও কিপিং করেছে। তার মুভমেন্টও অনেক ভালো ছিল। আলহামদুলিল্লাহ।’
দলের অবস্থা নিয়ে বলেন, ‘আমাদের উন্নতি দিন দিন হচ্ছে। খেলোয়াড়রা অনেক পরিশ্রম করছে। বিশেষ করে লংগার ভার্সন ক্রিকেটে স্লিপ ক্যাচ, হাই ক্যাচ, ডিপ ফাইন লেগ, ডিপ স্কয়ার লেগ—এ ধরনের ক্যাচিংয়ের সাথে স্পিনের বিপক্ষে ক্লোজ ক্যাচিং নিয়েও কাজ করছি। আলহামদুলিল্লাহ, তারা অনেক ভালো করছে।’
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে আছে বলে মনে করেন আশিকুর। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়ায় কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা নেয়া সহজ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আশিকুর বলেন, ‘আমরা এখানে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। সেখানে কে কোথায়, কোন জায়গায় ভালো করছে, সেটা ফলোআপ করা হয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচে ছেলেরা খুব ভালো ফিল্ডিং করেছে, ভালো ক্যাচও ধরেছে। কন্ডিশন আমাদের মনের ভেতরেই। পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় যত দ্রুত সম্ভব মানিয়ে নিতে পারা আমাদের জন্য ভালো।’
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে বাংলাদেশ মানসিকভাবেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রতিপক্ষের তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে বাড়তি চিন্তা না করে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলার ওপরই জোর দিতে চান আশিকুর।
তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের খেলোয়াড়রা টেস্টে লড়াই করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। ক্রিকেট গোল বলের খেলা। আমরা মানসিক ও শারীরিক—দুইভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেটা মাঠেই দেখা যাবে।’
অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক কিংবা ব্যাটিংয়ের স্টিভ স্মিথ ও ট্রাভিস হেডের মতো তারকাদের নিয়েও আলাদা কোনো ভয় নেই বাংলাদেশের। আশিকুরের মতে, শেষ পর্যন্ত লড়াইটা হবে কোকাবুরা বলের সাথে মানিয়ে নেয়ার।
‘আসলে খেলাটা কোকাবুরা বলে। এখানে নামের কোনো পরিচয় নেই। আমাদের খেলোয়াড়রা অনেক অভিজ্ঞ, অনেক দিন ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলছে। তারা জানে কাকে কীভাবে, কখন মোকাবেলা করতে হয় এবং কীভাবে ক্রিকেটটা খেলতে হয়।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে বড় ব্যবধানে হার কিংবা প্রস্তুতি ম্যাচে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না হওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে পড়ে থাকতে চান না আশিকুর। বরং অতীত ভুলে সামনে তাকানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘আমি বলব, সামনে তাকানোই ভালো। পেছনে কী হয়েছে, সেটা অতীত। আলহামদুলিল্লাহ, দেখা যাক সামনে কী হয়।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে সুযোগ তৈরি হবে কম। তাই পাওয়া প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ। তার মতে, দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে অর্ধেক সুযোগকে পূর্ণ সুযোগে পরিণত করাই হবে গুরুত্বপূর্ণ।
আশিকুর বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, কনসেন্ট্রেশন ধরে রাখা। লংগার ভার্সনে অনেকক্ষণ ধরে বল আসে না। কিন্তু যখন একটি সুযোগ আসবে, সেটি একটাই—সেটা ধরতেই হবে।
লংগার ভার্সন ক্রিকেটে হাফ চান্সকে ফুল চান্স বানানোই খেলোয়াড়দের মূল লক্ষ্য। আমাদের খেলোয়াড়রা এ বিষয়ে সজাগ আছে। কনসেন্ট্রেশন কীভাবে আরো বাড়ানো যায়, সেটি নিয়েই কাজ চলছে।’



