ওয়ানডেতে সময়টা মোটেও ভালো কাটছে না বাংলাদেশ দলের। শেষ ৬ সিরিজের ৪টিতেই হেরেছে টাইগাররা। ফলে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ করা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
অধিনায়ক মেহেদী মিরাজের নেতৃত্বে দল যেমন ভুগছে, তেমনি তিনি নিজেও ভুগছেন ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই। যা বিশ্বকাপের আগে বেশ ভাবাচ্ছে সমর্থকদের।
এই সময়ে ৯ ম্যাচ খেলে তার উইকেট মাত্র ১১টি। আর রান করেছেন মোটে ১৭৩। যেখানে এক ইনিংসেই করেন ৬০। আবার স্ট্রাইকরেটও ৬০ এর ঘরে।
আবার পূর্ণ মেয়াদে অধিনায়ক হিসেবেও তেমন সুখকর নয় মিরাজের পরিসংখ্যান। ১৩ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জয় মাত্র ৩টিতে, যার দুটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে।
এদিকে ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র এক বছর, অথচ আদৌ মিরাজ সেখানে অধিনায়কত্ব করবেন কিনা তা নিয়েও আছে অনিশ্চয়তা। নেতৃত্বের মেয়াদ চলতি জুনেই শেষ হয়ে যাবে তার।
এদিকে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে বাংলাদেশকে থাকতে হবে র্যাঙ্কিংয়ে নয়ের ভেতর। যেখানে বাংলাদেশ আছে দশে। যদিও ঘরে-বাইরে মিলিয়ে এখনো ম্যাচ আছে ২২টি।
ফলে এখন প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ টাইগারদের জন্য। যার শুরুটা হচ্ছে কাল থেকেই। বুধবার মিরপুরে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
ম্যাচের আগে আজ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আসেন টাইগার অধিনায়ক মিরাজ। সেখানে দল ও নিজের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি।
নিজের নেতৃত্বের মেয়াদ নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘এটা ক্রিকেট বোর্ডে যারা আছে তাদের ডিসিশন। তারা এখনো এই ব্যাপারে আমার সাথে কোনো আলোচনা করেননি। আমার কাছে মনে হয় এই সিরিজ পরে হয়তো আলোচনা হবে।’
তিনি বলেন, ‘অধিনায়কত্ব যাকেই দেয়া হোক, সময় দিলে দলকে তৈরি করা যায়। এগুলো অবশ্য বোর্ড দেখবে। আমার যে ভূমিকা, আমাকে যত দিনের জন্য এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, আমি চেষ্টা করব দলটাকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে।’
নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও মিরাজ খুব একটা চিন্তিত নন বলে জানান। বলেন, ‘আমি চিন্তিত না, চিন্তার কিছু নেই। লাস্ট যে সিরিজগুলো আমরা খেলেছি, অনেক গ্যাপে গ্যাপে খেলেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে সবার আশা আমি অনেক ম্যাচ জেতাবো। মানুষের সবার আশা হয়তো পূরণ হচ্ছে না, অ্যাভারেজ হচ্ছে। কিন্তু অবশ্যই চেষ্টা করব, দলের জন্য ম্যাচ জেতাতে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া সিরিজ নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘এই সিরিজটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার জন্য নয়, দলের জন্য, বাংলাদেশের জন্য। কারণ বিশ্বকাপে জায়গা করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার কথা মাথায় রেখে ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে চান মিরাজ। তবে বিশ্বকাপের স্পোর্টিং উইকেটের কথাও রেখেছেন মাথায়। এই প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন-
‘যাদের বিপক্ষে আমরা হোম কন্ডিশনের সুবিধা নিতে পারি, তাহলে অবশ্যই সেই ধরনের উইকেট তৈরি করার চেষ্টা করব। পাশাপাশি আমরা চাই যত বেশি সম্ভব ম্যাচ ভালো ও ট্রু উইকেটে খেলতে।’



