বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ শেষে সম্প্রচারক টিভি চ্যানেলকে লিটন দাস বলেন, ‘প্রথমত, এখানে কেউ চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি। এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ। নিয়মে আছে আউট, এটা আউট। এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ নষ্ট হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। যে যার ব্যক্তিগত মতামত দিতে পারে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে আউট।’
শুক্রবার (১৩ মার্চ) পাকিস্তানের বিপক্ষে নূন্যতম লড়াইটুকোও করতে পারেনি বাংলাদেশ। হারের ব্যবধানটা ১২৮ রানের। তবে হার-জিত ছাপিয়ে এই ম্যাচ আলোচনায় আছে বিতর্কিত রান আউট কাণ্ডে।
ম্যাচটিতে বিরল রান আউটের শিকার হন সালমান আগা। তাকে রান আউটের ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশ মেহেদী হাসান মিরাজ। যা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বই এখন দুই ভাগে বিভক্ত।
মিরাজ ‘অখেলোয়াড়সুলভ’ আচরণ করেছেন কি না, তা নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। তবে লিটন দাস বিষয়টিকে দেখছেন স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবেই।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের পাকিস্তানি স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদও মিরাজের পক্ষেই কথা বলেছেন।
তিনি বলেন ‘মিরাজ ভেবেছে তাকে রানআউট করবে। সে নিশ্চিত ছিল না সালমান কী করছে। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না মিরাজ কোনো ভুল করেছে।’
উল্লেখ্য, ঘটনাটা ছিল পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার শক্ত জুটিতে রান তখন ১০০ ছাড়িয়েছে। যা হয়ে উঠে বাংলাদেশের জন্য গলার কাঁটা।
এরই মাঝে সেই ওভারের চতুর্থ বলটা সামনের দিকে খেলেছিলেন রিজওয়ান। পা দিয়ে তা থামিয়ে দেন মিরাজ। সেসময় নন স্ট্রাইক প্রান্ত ছেড়ে দাগের বাহিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সালমান। বল চলে যায় তার কাছে।
একই সময়ে সালমান–মিরাজ দু’জনই বলের দিকে হাত বাড়ালেও মিরাজই তা আগে তুলে নেন, এরপর আন্ডার আর্ম থ্রোতে ভেঙে দেন স্টাম্প। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত আসে আউট।
এই জুটি ভাঙার পর অবশ্য পাকিস্তান আর বেশিদূর যেতে পারেনি। ৪৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় ২৭৪ রানে৷ তবে এই রান তাদের জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়।
বাংলাদেশ দল ১১৪ রানে অল আউট হয়ে যায়। বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে দল মাঠ ছাড়লেও এই রান আউট বিতর্ক পিছু ছাড়েনি।



