এক ম্যাচ হাতে রেখেই পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। তবে সুযোগ হয়েছে হাতছাড়া, বেড়েছে অপেক্ষা। ১০ বছরের আক্ষেপ ঘোচাতে শেষ ম্যাচের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে এবার।
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শুক্রবার (১৩ মার্চ) বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ে সিরিজে ফিরল তারা, দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা। শেষ ম্যাচটা তাই রূপ নিয়েছে অলিখিত ফাইনালে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ শেষবার সিরিজ জিতেছিল ১০ বছর আগে, ২০১৫ সালে। এরপর থেকে বেড়েই চলেছে অপেক্ষা। সেই অপেক্ষা ফুরানোর সুযোগ ছিল আজ। যদিও তা আর হলো না।
এদিকে একদিনের বিপরীতে পুরো উল্টো চিত্র ছিল মিরপুরে। প্রথম ম্যাচের দাপুটে ভাবের কিছুই দেখা মিলল না, হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল টাইগাররা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে পাত্তাই পেল না মেহেদী মিরাজের দল।
দুই দলের অবস্থা যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। প্রথম ম্যাচে যেখানে পাকিস্তানকে ১১৪ রানে আটকে দিয়েছিল বাংলাদেশ, আজ যেন তারই প্রতিশোধ নিলো সফরকারীরা। ২৩.৩ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে গেছে টাইগাররা।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। মাত্র ১৫ রানে হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। আগের ম্যাচে দারুণ ব্যাট করা তানজিদ তামিম ফেরেন ৭ বলে মাত্র ১ রান করে। তাকে ফেরান শাহিন আফ্রিদি।
এরপর মোহাম্মদ ওয়াসিমের করা চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই শর্ট মিড অফে ক্যাচ সাইফ হাসান (১২)। তবে বিপদ কাটেনি তখনো, শাহিনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত (০)।
সেই চাপ আরো বাড়িয়ে দেয় বৃষ্টি। ৬.৩ ওভারে ২৭ রান তুলতেই শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টি। লম্বা সময় বৃষ্টির কারণে কমে এসেছে ম্যাচের দৈর্ঘ। ২৭৫ থেকে কমে এসে ৩২ ওভারে ২৪৩ হয় টাইগারদের লক্ষ্য।
ফলে বৃষ্টির পর ১৫৩ বলে করতে হতো ২১৬ রান। লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় মিলে চেষ্টা করেন সেই সমীকরণ মেলানোর। গড়েন ৪৮ বলে ৫৮ রানের জুটি। তবে এরপর লিটন ৩৩ বলে ৪১ করে ফিরলে পথ হারায় দল।
হৃদয় ২০ ওভার পর্যন্ত মাঠে থাকলেও ততক্ষণে বেরিয়ে আসে টাইগারদের ইনিংসের লেজ। অষ্টম উইকেট হিসেবে হৃদয় ফেরেন ৩৮ বলে ২৮ করে। মাঝে আফিফ হোসেন করেন ১৪।
তারা ছাড়া বাংলাদেশের আর কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। ৪ উইকেটে ৯৫ থেকে আর ১৯ রান যোগ করতেই ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। হারিস রউফ ও মাআজ সাদাকাত নেন তিনটি করে উইকেট।
এর আগে, পাকিস্তান উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ১০৩! গলার কাঁটা হয়ে উঠেন মাআজ সাদাকাত। টাইগার বোলারদের নাভিশ্বাস তুলে ৩১ বলে পেয়ে যান ফিফটি। তার রানের সাথে বাড়তে থাকে পাকিস্তানের রানও।
পাওয়ার প্লে কাটে উইকেট শূন্য, বিনা উইকেটে ৮৫ রান তুলে পাকিস্তান। প্রথম উইকেটের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ১৩ ওভার পর্যন্ত। ওভারের শেষ বলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।
উপলক্ষ এনে দেন অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা সাদাকাত ৬ চার ৫ ছক্কায় ৪৬ বলে ৭৫ করে আউট হন। ততক্ষণে দলের রান তিন অঙ্ক ছুঁয়েছে (১০৩)।
এরপর দ্রুত আরো দুই উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ১৭.৪ ওভারে সাহিবজাদা ফারহানকে (৪৬ বলে ৩১) থামান তাসকিন। আর ২২ বলে মাত্র ৬ রান নিয়ে আউট হন শামিল হাসান।
১৯.২ ওভারে পাকিস্তান ৩য় উইকেট হারানোর পর রিজওয়ান ও সালমান আগা মিলে গড়েন শতরানের জুটি। ১১৫ বল খেলে দু’জনে তুলেন ১০৯ রান। জুটিটি ভাঙে অদ্ভুত রান আউটে।
ইনিংসের ৩৯তম ওভারের চতুর্থ বলে রিজওয়ানের শট বোলার মিরাজ সেটি পা দিয়ে আটকান। এ সময় অপর প্রান্তে থাকা সালমান দাগের বাইরে ছিলেন। এমতাবস্থায় বলটিও তার পায়ের কাছে চলে আসে।
যা সালমান সেটি মিরাজের হাতে দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে সালমান বল ধরার আগেই মিরাজ বল নিয়ে সেটি স্টাম্পে মারেন। সালমান দাগের বাহিরে থাকায় আম্পায়ার দেন আউটের সিদ্ধান্ত।
৬২ বলে ৬৪ রানে শেষ হয় সালমানের ইনিংস। সালমান ফেরার পর ছন্দ হারান রিজওয়ান। এক বল পর মিরাজের বলে রিশাদকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৫৯ বলে ৪৪ রান করে।
৩৯ ওভারে ২৩১ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। তবে আর কেউ তেমন কিছু করতে পারেননি। রিশাদ একাই তুলে নেন ৩ উইকেট। হোসাইন তালাত (৯), শাহিন আফ্রিদি (৩) ও ওয়াসিম জুনিয়র (১) শিকার তার।
১৪ রান করা ফাহিম আশরাফকে ফেরান মোস্তাফিজ ও ৭ বলে ১১ করে রান আউট হন আব্দুল সামাদ। মাত্র ৪৩ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
রিশাদ ৩, মিরাজ ২ ও তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা নেন একটি করে উইকেট।



