মাত্র ২১১ রানের লক্ষ্য। কিন্তু সেই রানও তাড়া করতে ব্যর্থ হলো পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণের সামনে ধসে পড়ল সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ। বাবর আজম একাই লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত পেরে উঠেননি।
মঙ্গলবার তারুবার ব্রায়ান লারা ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ৯০ রানের বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তানকে। আর সিরিজের প্রথম টেস্টে জয় নিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৭১ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। এরপর অধিনায়ক বাবর আজম ও মোহাম্মদ আব্বাস শেষ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১২০ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
১০৭ বলে অপরাজিত ৫৮ রান করেন বাবর। আব্বাসের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান। এছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন কেবল মোহাম্মদ রিজওয়ান, তার সংগ্রহ ১১ রান।
বল হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নেতৃত্ব দেন জেইডেন সিলস। ১৪.২ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। কেমার রোচ ও জাস্টিন গ্রিভস নেন দু’টি করে উইকেট, আর শামার জোসেফের শিকার একটি।
এই হারের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ড গড়েছে পাকিস্তান। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর থেকে বিদেশের মাটিতে টানা আটটি টেস্টে হেরেছে তারা, যা পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে দীর্ঘতম অ্যাওয়ে হার।
এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে হার পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ব্যর্থ রানতাড়া। এর আগে ২০১৭ সালে ব্রিজটাউনে ১৮৮ রানের লক্ষ্যও ছুঁতে পারেনি তারা।
ম্যাচে আরো একটি বিরল রেকর্ড হয়েছে। দুই দলের ৪০টি উইকেটই নিয়েছেন পেস বোলাররা। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে মাত্র ষষ্ঠবার এমন ঘটনা ঘটল। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবার ২০টি উইকেটই গেল ক্যারিবীয় পেসারদের পকেটে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩১১ রান করলে জবাবে পাকিস্তান করে ২৮২ রান। ২৯ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮১ রান তোলে স্বাগতিকরা। শামার জোসেফ ২৭ বলে ৩৮, কেমার রোচ ১৮ ও জোমেল ওয়ারিকান ১৪ রান করেন।
পাকিস্তানের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করেন মোহাম্মদ আব্বাস। ১৫.৫ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি। মোহাম্মদ আলি ও খুররম শাহজাদ দু’টি করে এবং আমির জামাল একটি উইকেট শিকার করেন।
প্রথম ইনিংসে টানা পাঁচটি মেডেন ওভারে পাঁচটি উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসে অনন্য কীর্তি গড়া জাস্টিন গ্রিভস ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন।
এখন কুইন্স পার্ক ওভালে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে জিতলেই কেবল সিরিজ সমতায় ফেরার সুযোগ থাকবে পাকিস্তানের। অন্যদিকে জয় বা ড্র করলেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।



