কোনো গোলকধাঁধা আটকাতে পারলো না মোহামেডানকে। সব সমীকরণই মিলে গেল খাপে-খাপে। প্রায় দেড় যুগের অপেক্ষা শেষে চ্যাম্পিয়ন সাদা-কালোরা। লিস্ট-এ স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রথমবার শিরোপা জিতলো তারা।
শুক্রবার (১২ জুন) বৃষ্টি আইনে আবাহনীকে ৬৩ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে মোহামেডান।
বিকেএসপিতে আগে ব্যাট করে ৪০৬ রান করে তারা। পরে চার উইকেটে ২৪.৪ ওভারে ১৭৮ রান তুলতেই বৃষ্টির কারণে আর খেলা সম্ভব হয়নি।
এদিন শিরোপার সামনে ছিল তিনটি দল- মোহামেডান, আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংক। তবে সবচেয়ে কঠিন মারপ্যাঁচ ছিল সাদা-কালোরাই। যেখানে নিজেদের শুধু জিতলেই হতো না, হারতে হতো প্রাইম ব্যাংককেও।
ঐতিহ্যবাহী দলটির কাজ সহজ করে দিয়েছে প্রকৃতি। বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে যেমন জিতেছে মোহামেডান, অন্যদিকে হেরেছে প্রাইম ব্যাংক। এতে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান।
এদিন ঢাকা লেপার্ডসের মুখোমুখি হয় শিরোপার দৌড়ে থাকা প্রাইম ব্যাংক। তারা আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৬৬ রানের পুঁজি পায়। জবাবে লেপার্ডস ২৯.১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৪২ রান করার পর খেলা বন্ধ হয়ে যায়।
প্রায় দেড় ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার পর বৃষ্টি আইনে লেপার্ডসকে ৮ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়। ফলে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় মোহামেডান। অন্য দিকে সমান ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংকের।
মোহামেডান অবশ্য জেতার জন্য সব চেষ্টাই করেছে। আগে ব্যাট করতে নেমে রেকর্ড ৪০৬ রানে তুলে মোহামেডান। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। যেখানে বড় ভূমিকা এনামুল হক বিজয় ও পারভেজ ইমনের।
ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে বিজয় ১১ চার ও ৯ ছক্কায় ১১৫ বলে ১৪১ রান করে আউট হন। আর তিনে নেমে ১০ চার ও ১২ ছক্কায় ১১৬ বলে ১৫০ রান করেন ইমন। দুজনে যোগ করেন ২৪৮ রান, যা প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় সেরা জুটি।
এ ছাড়া চারে নেমে আফিফ হোসেন ৩৩ বলে ৬১ ও ১৬ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন আনিসুল ইসলাম।
রান তাড়ায় আবাহনী ২৪.৪ ওভারে ১৭৮ রান তুলে ৪ উইকেট হারিয়ে। এরপর নামে বৃষ্টি। মাঠ ছাড়ার আগে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৪ বলে ৮৫ রান করেন অনিক সরকার। সাব্বির রহমান ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন।



