অস্ট্রেলিয়া ভীতি তো আগেই ছিল, প্রস্তুতি ম্যাচে অজিদের তৃতীয় সারির দলের বিপক্ষে ম্যাচে পঞ্চাশ পেরোতেই অলআউট হলে সেই ভীতি আরো ঝেঁকে বসে। এরপর মূল টেস্টে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারবে, তা নিয়ে ছিল সংশয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারবে না—এমন ভবিষ্যদ্বাণীও করেছিলেন অনেকে।
অথচ সেই অস্ট্রেলিয়ার মূল দলের বিপক্ষে দাপট দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। টেস্টের দুই দিন শেষেও চালকের আসনে টাইগাররা। দুই ম্যাচের এই দুই চিত্র যেন কোনোভাবেই মেলানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশের এমন অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানো মুগ্ধ করেছে ভারতের সাবেক তারকা রবিচন্দ্রন অশ্বিনকেও।
মারারা স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় সফরকারীরা। হাসান মাহমুদ ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন, শিকার করেন ৬ উইকেট। বাংলাদেশের পেসারদের দারুণ লাইন-লেন্থে শুরু থেকেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং।
সেই মোমেন্টাম ধরে রাখেন ব্যাটাররাও। দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়েন তানজিদ হাসান তামিম। ১০১ রানের ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটার হন তিনি।
তানজিদের সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ ও মুমিনুল হকের ৪৯ রানে ভর করে দ্বিতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে।
বাংলাদেশের এই নাটকীয় পরিবর্তনই চোখে পড়েছে অশ্বিনের। প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা থেকে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন আধিপত্য—তার কাছে যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্বিন লিখেছেন, ‘ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাকফুটে রেখেছে বাংলাদেশ। যা কারো স্ক্রিপ্টের সাথেই মিলছে না। প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট, সেখান থেকে প্রথম টেস্টের দু’দিনেই আধিপত্য দেখানো। বাংলাদেশের এই ঘুরে দাঁড়ানো অসাধারণ।’
বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সের প্রশংসার পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটের পক্ষেও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন ভারতের কিংবদন্তি এই স্পিনার। শেষ করেছেন একটি বার্তা দিয়ে, ‘এই ফরম্যাট দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকুক।’
প্রস্তুতি ম্যাচে সেই ৫৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া থেকে ডারউইনে ১৫৩ রানের লিড—মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশের এই বদলে যাওয়া যেন টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যেরই আরেকটি উদাহরণ। আর সেই গল্পে এখন বাংলাদেশ শুধু লড়াই করছে না, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে।


