প্রথম ম্যাচে অসহায় হারের পর ঘুরে দাঁড়াতেই হতো ভারতকে। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন ছিল বড় জয়। জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে সেই সমীকরণ অনেকটাই মিলিয়েছে তারা।
চেন্নাইয়ে বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়েকে ৭২ রানে হারিয়েছে ভারত। আগে ব্যাট করে তাদের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২৫৬ রান। জবাবে ব্রায়ান বেনেটের ৯৭ রানের পরও ১৮৪ রানে আটকে যায় জিম্বাবুয়ে।
এদিন জিম্বাবুয়ের ওপর দিয়ে রীতিমতো ঝড় বয়ে দেয় ভারত। ২৫৬ রান গড়ার পথে নতুন রেকর্ডের জন্ম দেয় তারা। এবারের বিশ্বকাপ আসরে এর চেয়ে বেশি রান করেনি কোনো দল।
অবশ্য জিম্বাবুয়ে আগের ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছেও হজম করেছিল সমান ২৫৬ রান। টি-টুয়েন্টিতে কোনো দলের টানা দুই ম্যাচে আড়াই শ’র বেশি রান হজমের ঘটনা এই প্রথম।
এ ছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ২০০৭ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা করেছিল ২৬০ রান। যা দেড়যুগেও করতে পারেনি আর কেউ।
এদিকে ভারতের জয়ে সুপার এইট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল জিম্বাবুয়ের। আর প্রথম দুই ম্যাচ জেতা দক্ষিণ আফ্রিকা পেয়ে গেল সেমিফাইনালের টিকেট। এখন লড়াইটা ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঝে।
টসে হেরে ব্যাট করতে নামা ভারতের দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা শুরু থেকেই ছিলেন মারমুখী। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারালেও তোলে ৮০ রান। ১৫ বলে ২৪ করে আউট হন স্যামসন।
তবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের এই ধারা বজায় থাকে। আগের চার ম্যাচে ৩ ডাকসহ ১৫ রান করা অভিষেক এদিন জ্বলে ওঠেন। ইশান কিষানকে নিয়ে যোগ করেন ৪২ বলে ৭২ রান। ইশান আউট হন ২৪ বলে ৩৮ করে।
তবে অভিষেক ফিফটি তুলে নেন ২৬ বলে। তবে এরপর ইনিংস আর বড় হয়নি, ৩০ বলে ৫৫ রান নিয়ে আউট হন। ঝড় তুলেন সূর্য কুমার যাদবও, তবে ১৩ বলে ৩৩ রানের বেশি করতে পারেননি।
পরে ইনিংস ফিনিশিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে নেন হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে শেষের ৩১ বলে ৮৪ রান যোগ করেন তারা। জুটির রান করার হার ওভারপ্রতি ১৬.২৫ রান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওভারপ্রতি এর চেয়ে বেশি রানের জুটি আছে আর মাত্র একটি। ২০০৭ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে সনৎ জয়সুরিয়া ও মাহেলা জয়াবর্ধনে ওভারপ্রতি ১৮ গড়ে ২৯ বলে যোগ করেন ৮৭ রান।
ইনিংসের শেষ দুই বলে ছক্কা মেরে ২৩ বলে ফিফটি করেন হার্দিক। ১৬ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিলক। সব মিলিয়ে পুরো ইনিংসে ১৭টি ছক্কা মারে ভারত। বিশ্বকাপে এক ইনিংসে যা তাদের রেকর্ড।
এই লক্ষ্য ছুঁতে হলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়তে হতো জিম্বাবুয়েকে। কিন্তু সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি দলটি। শুধু ভারতের জয়ের অপেক্ষা বাড়িয়েছেন ব্রায়ান বেনেট।
ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাট কর ৫৯ বলে ৯৭ রান করেন বেনেট। এবারের আসরে এই নিয়ে ৫ ম্যাচের ৪ টিতেই ফিফটি পেলেন তিনি। অবশ্য তার এমন ইনিংসও দলের বড় পরাজয় এড়াতে পারেনি।
জিম্বাবুয়ের হয়ে দ্বিতীয় সেরা রান করেন সিকান্দার রাজা (২১ বলে করেন ৩১)। আর কেউ ভালো করতে না পারলে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৮৪ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন আর্শদ্বীপ সিং।
এই জয়ে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখল ভারত। তবে শেষ চারে উঠতে হলে আগামী ১ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি জিততে হবে তাদের।



