কঠিন মারপ্যাঁচে লঙ্কান ক্রিকেটাররা, সিরিজ হারলেই জরিমানা!

অধিনায়কের জন্য অতিরিক্ত ম্যাচ ফি-ও রাখা হয়েছে নতুন চুক্তিতে। প্রতিটি টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচের জন্য অধিনায়ক পাবেন অতিরিক্ত ১ হাজার ডলার। প্রতিটি টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ৫০০ ডলার পাবেন অধিনায়ক।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
শ্রীলঙ্কা দল
শ্রীলঙ্কা দল |ফাইল ছবি

ক্রিকেটাররা ভালো করলে পুরস্কার পান, তাই বলে খারাপ করলে জরিমানা! তবে বিরল এই কাজটিই করতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। সিরিজ হারলেই কেটে নেয়া হবে ম্যাচ ফি, আছে বোনাস না পাবার শঙ্কাও।

ক্রিকেটারদের চাপে রাখতে বোনাস বন্ধ ও জরিমানা করার মতো কঠিন সিদ্ধান্তই নিতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। লঙ্কান সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে।

জানা গেছে- এখন থেকে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে জিতলে বোনাস পাবেন না দেশটির ক্রিকেটাররা। আর যদি এসব দলের সাথে সিরিজ হেরে বসে, তবে উল্টো দিতে হবে জরিমানা!

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সরকারের হস্তক্ষেপে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডে (এসএলসি) আমূল পরিবর্তন এসেছে। বদলে গেছে বোর্ড প্রশাসন। নতুন পরিচালনা পর্ষদ এসেই জারি করছে নতুন কিছু নীতি-কৌশল।

যেখানে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে ক্রিকেটারদের চুক্তিতে। এতদিন আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ নয় নম্বর পর্যন্ত থাকা দেশগুলোর বিপক্ষে জিতলেই বোনাস পেতেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা।

কিন্তু এখন আর সেই নিয়ম জারি থাকছে না। নতুন কাঠামো অনুসারে, বোনাস পাওয়া যাবে শুধু র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ চারে থাকা দলের বিপক্ষে জিততে পারলে। তবে শুধু ম্যাচ নয়, বোনাস মিলবে শুধু সিরিজ জয়ের ক্ষেত্রেই।

এমনকি র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রতিপক্ষের অবস্থান অনুসারে বোনাসের হারও পরিবর্তন হবে। টেস্টে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা দলের বিপক্ষে, তাদের মাঠে সিরিজ জিতলে পুরো দল মিলে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার বোনাস পাবে।

একইভাবে দুই, তিন ও চারে থাকা দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে সিরিজ জিতলে ক্রিকেটাররা পাবেন যথাক্রমে ১ লাখ ৫ হাজার ডলার, ৭৫ হাজার ডলার ও ৬০ হাজার ডলার করে।

কিন্তু সিরিজ জয়টা যদি হয় ঘরের মাঠে, সেক্ষেত্রে বোনাসের হার কমে যাবে। এক্ষেত্রে র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার ওপরে থাকা দলকে হারাতে পারলে পুরো দলের ক্রিকেটাররা মিলে পাবেন ১ লাখ ডলার।

আর দুই, তিন ও চারে থাকা দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে সেই পুরস্কারের অর্থ যথাক্রমে ৭৫ হাজার ডলার, ৫০ হাজার ডলার ও ২৫ হাজার ডলার হবে।

টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজ জয়ের ক্ষেত্রে আলাদা বোনাস কাঠামো করা হয়েছে। দেশের বাইরে সিরিজ জয়ের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ যদি র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ দল হয়, তবে বোনাস হবে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

পরের তিনটি ধাপের জন্য বোনাস হবে যথাক্রমে ১ লাখ ডলার, ৮০ হাজার ডলার ও ৭০ হাজার ডলার। কিন্তু অ্যাওয়ের পরিবর্তে ওয়ানডে সিরিজটা যদি ঘরের মাঠে হয়, তবে এই বোনাসের হার নেমে আসবে অর্ধেকে।

টি-টোয়েন্টির ক্ষেত্রে ঘরের মাঠে কিংবা দেশের বাইরে- বোনাসের পরিমাণ একই রাখা হয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ বিবেচনায় এ হার কম-বেশি হবে।

শীর্ষ চার দলের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলে বোনাসের পরিমাণ হবে যথাক্রমে ৭৫ হাজার, ৫০ হাজার, ৪০ হাজার ও ৩৫ হাজার ডলার।

এ তো গেল বোনাসের হিসাব। নতুন চুক্তিতে রাখা হয়েছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও। যেকোনো সংস্করণে সিরিজ হারলেই ম্যাচ ফি থেকে ১০ শতাংশ কেটে নেয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে চুক্তিতে।

এদিকে ম্যাচ ফিও পুনর্নির্ধারণ করতে যাচ্ছে এসএলসি। নতুন চুক্তি অনুসারে, টেস্টে জিতলে খেলোয়াড়রা ম্যাচ ফি পাবেন ১৫ হাজার ডলার। ড্র হলে সেটি কমে দাঁড়াবে ১০ হাজার ডলারে। আর হেরে গেলে ম্যাচ ফি হবে ৭ হাজার ৫০০ ডলার।

ওয়ানডেতে জয়ের জন্য ৭ হাজার ৫০০ ডলার, হারলে ৩ হাজার ৫০০ ও ফল না হলে ৩ হাজার ডলার দেয়া হবে। টি-টোয়েন্টিতে জিতলে ৫ হাজার ডলার, হারলে ২ হাজার ৫০০ এবং ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে বা ফল না হলে ২ হাজার ডলার মিলবে।

তবে সুখবরও আছে ক্রিকেটারদের জন্য। এখন থেকে ম্যাচ ফি ও সিরিজ জয়ের বোনাস ছাড়াও খেলোয়াড়রা বার্ষিক চুক্তির পারিশ্রমিক, সফর ভাতা, দৈনিক ভাতা ও স্পনসরশিপ থেকে আয়ের অংশ পাবেন।

এর বাইরে র‍্যাঙ্কিংয়ে ভালো করলেও বোনাস দেবে এসএলসি। র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠতে পারলেই ওই ক্রিকেটারকে এককালীন ২৫ হাজার ডলার দেবে বোর্ড। আর দুই থেকে পাঁচ নম্বরে উঠতে পারলে সেই অঙ্ক নেমে আসবে ২০ হাজার ডলারে।

অধিনায়কের জন্য অতিরিক্ত ম্যাচ ফি-ও রাখা হয়েছে নতুন চুক্তিতে। প্রতিটি টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচের জন্য অধিনায়ক পাবেন অতিরিক্ত ১ হাজার ডলার। প্রতিটি টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ৫০০ ডলার পাবেন অধিনায়ক।