আইপিএলে পরপর দুই মৌসুমে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। এবারের টুর্নামেন্টে তার ব্যাটেই সওয়ার হয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। দুর্দান্ত আইপিএল কাটানোর পর রাজস্থানের কোচ কুমার সাঙ্গাকারার বিশ্বাস, দ্রুতই ভারতের জাতীয় দলে ডাক পাবেন বৈভব।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে রাজস্থান। দল হারলেও ৮ চারের সাথে ৭ ছক্কায় মাত্র ৪৭ বলে ৯৬ রানের ইনিংস খেলেছেন বৈভব। এর আগে এলিমিনেটর ম্যাচে মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রান করেছিলেন ১৫ বছর বয়সী ওপেনার।
সব মিলিয়ে এবারের আইপিএলে ১৬ ইনিংসে ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে করেছেন এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭৭৬ রান। একটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি পাঁচটি ফিফটি করেছেন বাঁহাতি ওপেনার। তিনবার ৯০ পেরিয়েও আউট হয়েছেন সেঞ্চুরির আগেই।
টুর্নামেন্টে তার ব্যাট থেকে ৬৩ চারের সাথে আসে রেকর্ড ৭২টি ছক্কা। আইপিএল ইতিহাসে আন্তর্জাতিক অভিষেকের আগে ৭০০ রান করা প্রথম ব্যাটার তিনিই। এর বাইরে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে অনেক অনেক রেকর্ড গড়েছেন বৈভব।
তাই বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচনা শুরু হয়েছে, এখনই বৈভবকে ভারতের জাতীয় দলে নেয়া উচিত কিনা। এই বিষয়ে সাঙ্গাকারা বলেছেন, জাতীয় দলে ডাক পাওয়া থেকে বেশি দূরে নন ১৫ বছর বয়সী এই বিস্ময়বালক।
‘বিশ্বের সেরা বোলারের বিপক্ষে বৈভব যেভাবে খেলে দেখিয়েছে, যেকোনো চ্যালেঞ্জ নেয়ার জন্য সে পুরোপুরি প্রস্তুত। আমি নিশ্চিত যে, খুব দ্রুতই ও জাতীয় দলে ডাক পাবে। এই মৌসুমে আমাদের হয়ে ওপেনিংয়ে দায়িত্ব ও যেভাবে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে এবং যে পরিপক্বতার সাথে ব্যাটিং করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
শুধু বিধ্বংসী ব্যাটিংই নয়, গুজরাটের বিপক্ষে দায়িত্বশীলতার পরিচয়ও দেন বৈভব। শুরুতেই ইয়াশাসবি জয়সওয়াল ও ধ্রুব জুরেল ফিরে গেলে রবীন্দ্র জাদেজার সাথে মিলে দারুণভাবে চাপ সামাল দেন তরুণ এই ওপেনার।
ফিফটি করতে তার লেগে যায় ৩১ বল। যা কিনা আইপিএলে তার মন্থরতম। তবে পরের ১৫ বল থেকে করে ফেলেন ৪৬ রান। সেখান থেকে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি করতে গিয়েই মূলত ধরা পড়ে যান ডিপ থার্ড ম্যানে। তাই ফিরতে হয় ৯৬ রানে।
সাঙ্গাকারা বলেন, বৈভবকে বাড়তি চাপ না নিয়ে খেলার স্বাধীনতা রেখেছে রাজস্থান। ওকে নিয়ে আমাদের দারুণ পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা ওর মাথায় অযথা কোনো চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। ও দলের সব মিটিংয়ে উপস্থিত থাকে, নিজের মতামত দেয়, সবার কথা শোনে ও প্রস্তুতি ভালোভাবে গুছিয়ে নেয়।
‘ও যেমন মন দিয়ে অনুশীলন করে, ঠিক তেমনি বোলারদের শক্তির জায়গাও দারুণভাবে পড়তে পারে; তাদের ভিডিও দেখে নিজেকে দারুণভাবে প্রস্তুত করে। তাই আমরা ওর মাথায় বাড়তি কোনো চিন্তা ঢোকাতে চাই না। আমরা চাই ও একদম চাপমুক্ত মনে, সম্পূর্ণ নির্ভীকভাবে নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিংটা করুক।’



