ওয়ানডের সাফল্যের পর টি-টোয়েন্টির নতুন মিশন, লিটনকে ঘিরে শঙ্কা

ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে অধিনায়ক লিটন দাসের চোট প্রথম ম্যাচে তার খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে, যদিও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার ফিটনেস পর্যবেক্ষণ করা হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ |সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আনন্দ এখনো টাটকা। তবে সেই সাফল্য উদযাপনের সুযোগ খুব বেশি না পেয়েই নতুন চ্যালেঞ্জে নামছে বাংলাদেশ। এবার একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামবে টাইগাররা।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ২টায় চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি। ওয়ানডে সিরিজের আত্মবিশ্বাস সাথে নিয়েই মাঠে নামতে চায় বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর অভিজ্ঞতা অবশ্য বাংলাদেশের নতুন নয়। ২০২১ সালে মিরপুরে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে অজিদের হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল টাইগাররা। তবে এবার শুধুমাত্র স্পিননির্ভর উইকেট নয়, বরং স্পোর্টিং উইকেটে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে চায় বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামের সাগরিকার মাঠের এই লড়াই শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং দু’দলের জন্যই নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণের বড় মঞ্চ। বাংলাদেশের লক্ষ্য ওয়ানডের জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া চাইবে পরাজয়ের হতাশা কাটিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়াতে।

ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস বলেন, ‘শুধু সিরিজ জয় নয়, ওয়ানডে সিরিজে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। সেই ইতিবাচক দিকটাই টি-টোয়েন্টি সিরিজে আমাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে। আমরা চাই তিনটি ম্যাচেই ভালো ক্রিকেট খেলতে।’

তবে বাংলাদেশের জন্য বড় দুশ্চিন্তার নাম লিটন দাসের চোট। তৃতীয় ওয়ানডেতে ফিল্ডিংয়ের সময় পায়ের পেশীতে টান পড়ে তার। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় এবং পরে ব্যাটিংয়ে ফিরলেও আর ফিল্ডিং করতে পারেননি। সেই চোট পুরোপুরি সেরে না ওঠায় প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনেই লিটন জানিয়েছেন, প্রথম ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা ‘ফিফটি-ফিফটি’। অর্থাৎ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার ফিটনেস পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে দ্রুত দলে ডাকা হয়েছে সৌম্য সরকারকে। লিটন খেলতে না পারলে ওপেনিং ও নেতৃত্বের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে বাংলাদেশকে।

অন্যদিকে ওয়ানডে সিরিজে হারলেও টি-টোয়েন্টির জন্য আরো শক্তিশালী দল নিয়ে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। দলে যোগ দিয়েছেন অধিনায়ক মিচেল মার্শ ও বিধ্বংসী ব্যাটার টিম ডেভিড, যা সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপকে আরো শক্তিশালী করেছে।

সব মিলিয়ে, ওয়ানডের সাফল্যের পর টি-টোয়েন্টিতেও জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। তবে অধিনায়ক লিটনের ফিটনেস, দু’দলের সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস এবং অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী স্কোয়াড- সব মিলিয়ে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

দু’দলের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি লড়াই হয়েছিল ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, যেখানে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দু’দল ১১ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ৪টি ম্যাচ, আর অস্ট্রেলিয়া জয় পেয়েছে ৭টিতে। বাংলাদেশের চারটি জয়ই এসেছে নিজেদের মাটিতে, যা এবারো দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।